নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নেতার মুখে 'শুভেন্দু জিন্দাবাদ'

নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নেতার মুখে ‘শুভেন্দু জিন্দাবাদ’!

সপ্তাহের শুরুতেই নন্দীগ্রামে একটি প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেছিল রাজ্যের শাসক দল। আর সেখানেই তাদের এক প্রাক্তন নেতার নামে এমন জয়ধ্বনি উঠলো যে, সভায় উপস্থিত থাকা সকল নেতা-মন্ত্রীরা বেশ খানিকটা অস্বস্তিতে পড়তেই বাধ্য হলেন। আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের এক সময়কার দাপুটে নেতা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে, প্রায় বছর পাঁচেক আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগদান করেন। এখানেই শেষ নয়, এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কাছের মানুষ নন্দীগ্রামের ভোটে গো-হারা হারিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো-কে। আর এবার সেই প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামে স্লোগান উঠল তৃণমূলের সভায়।

নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিরুলিয়া বাজারে গত সোমবার তৃণমূলের একটি প্রতিবাদ সভা আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে সভাপতি সুজিত রায়, চেয়ারম্যান অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ওই মঞ্চেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপি-র বিরুদ্ধে সুর চড়ান প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহাদেব বাগ। তিনি বলেন, “টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়ে বিজেপি যদি ভেবে থাকে বাংলার মানুষ ছাব্বিশে তাদের ভোট দেবে, তবে ভুল করছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ই ২৫০ আসন নিয়ে আবার নবান্নে ফিরবেন।” বক্তব্য শেষে হাততালি দিতে শুরু করেন উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু ব্লক সভাপতির বক্তব্যের একেবারে শেষ মুহূর্তেই ঘটে অন্য ঘটনা! আচমকাই মহাদেব বাগ বলে ওঠেন, “তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ, যুবনেতা শুভেন্দু অধিকারী জিন্দাবাদ।” আর শুভেন্দু অধিকারীর নাম উচ্চারণ হতেই শুরু হয়ে যায় মুখ চাওয়া-চাওয়ি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি তা সংশোধন করে তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ”।

আর মহাদেব বাগের এমন কথায় রীতিমত আলোড়ন পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তৃণমূলের প্রতিবাদ সভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কিভাবে বিজেপি দলনেতার নাম নিতে পারেন? যদিও এ বিষয়ে অনেকেরই ব্যাখ্যা, এক সময় পূর্ব মেদিনীপুরের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই হয়তো পুরোনো অভ্যাসের কারণে মুখ ফসকে এমন কথা বেড়িয়ে গেছে। না না, এই ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের তরফ থেকে কটাক্ষ আসতে বেশি সময় লাগেনি। তাদের দাবি, এমন কথা মুখ ফসকে বেরোয়নি, বরং ভুলবশত তিনি মনের কথা জনসমক্ষে বলে ফেলেছেন। না, এ নিয়ে সভা শেষে আর কোনো মন্তব্য করেননি মহাদেব বাগ। কিন্তু আপাতত এ নিয়ে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *