Shuvendu Sarkar shares a major update: Shirking census duties could now lead to a three-year jail term!

জনগণনার কাজে ফাঁকি দিলেই এবার ৩ বছরের জেল যাত্রা! বড় আপডেট দিল শুভেন্দু সরকার !

রাজ্যের স্কুল শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীদের শিক্ষাদান সংক্রান্ত দায়িত্বের পাশাপাশি এবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক জাতীয় কর্তব্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০২৭ সালের আসন্ন জাতীয় জনগণনা বা সেন্সাস প্রক্রিয়াকে সফল করে তুলতে এবার স্কুল শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং ক্লার্কদের জন্য এক অত্যন্ত কড়া ও নজিরবিহীন বার্তা জারি করেছে প্রশাসন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের এই বৃহত্তম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীর জন্য সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এই কাজে কোনো রকম অবহেলা, গাফিলতি বা ফাঁকি দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

গত ১৮ মে প্রকাশিত একটি বিশেষ সরকারি গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এবারের অর্থাৎ ২০২৭ সালের জনগণনা প্রক্রিয়াটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা এবং আধুনিক হতে চলেছে। এই প্রথমবার দেশের সেন্সাস প্রক্রিয়াটি মোট দুই ধাপে এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে, যেখানে দেশের নাগরিকরা নিজেরাই সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। আর নাগরিকদের সেই স্ব-নথিভুক্ত করা সমস্ত তথ্য ও ডকুমেন্টস পরবর্তীতে সরকারি আধিকারিক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে ফাইনাল সিলমোহর দেবেন।

ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার লক্ষ্যে এই বিশাল ও জটিল কর্মযজ্ঞকে নিখুঁতভাবে সফল করতে এবং পঠনপাঠনের কোনো রকম ক্ষতি না করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে জেলা স্কুল পরিদর্শকের বা ডিআই-এর কার্যালয়ে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত নির্দেশিকা জারি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে এই চিঠি ও নির্দেশিকা ঘিরে শিক্ষক মহলের একটি বড় অংশের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, সেন্সাস অ্যাক্ট ১৯৪৮ বা ১৯৪৮ সালের ভারতীয় জনগণনা আইন অনুযায়ী স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো শিক্ষক বা শিক্ষা কর্মী যদি কোনো অত্যন্ত জোরালো বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এই জাতীয় দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করেন বা ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে চরম আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই আইন অমান্য করার অপরাধে অপরাধী শিক্ষকের সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত নগদ জরিমানা এবং একই সাথে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জেলের কঠোর বিধান রয়েছে।

স্কুলের পঠনপাঠন এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার নিয়মিত সুবিধার কথা বিবেচনা করে জেলা স্কুল পরিদর্শকের দফতর বা ডিআই অফিসের পক্ষ থেকে কিছু বিশেষ শিক্ষককে এই জনগণনার কঠিন দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি বা ছাড় দেওয়ার জন্য একটি মানবিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা পুরনিগম দেশের এই জাতীয় সুরক্ষার কাজ ও ডিজিটাল জনগণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের খামতি, অলসতা বা শিথিলতা দেখাতে নারাজ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে এবং শিক্ষকদের এই কাজে যুক্ত করার বিষয়ে নিজেদের কঠোর সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে। তো তোষণ, অবহেলা আর দায়িত্ব এড়ানোর পুরনো সংস্কৃতিকে চিরতরে উপড়ে ফেলে, দেশের আসল ও সঠিক পরিসংখ্যান তুলে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলার শাসনকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে প্রশাসনের এই কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক উদ্যোগ সত্যি এক উন্নত ও দায়িত্বশীল প্রশাসনিক ব্যবস্থার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *