আর দিন কয়েক পরই বাংলায় শুরু SIR! এই নথি না থাকলেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে নাম!

ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য SIR নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কেন্দ্র। মূলত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতেই এমন তৎপরতা। ইতিমধ্যেই বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এবার পালা বাংলা-সহ গোটা দেশে SIR সম্পন্ন হওয়ার। যদিও সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী মাসেই এ রাজ্যেও শুরু হতে চলেছে সংশোধন প্রক্রিয়া। যাতে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই ভোটদানের অধিকার পান। কিন্তু এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে কি কি নথি প্রয়োজন? কাদের নাম বাদ যেতে পারে আসন্ন বিধানসভার ভোটার তালিকা থেকে?

জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য তালিকাভুক্ত ভোটার বা নতুন আবেদনকারীদের বাড়ি পরিদর্শনে যাবেন বুথ স্তরের আধিকারিকরা এবং তারা একটি ফর্ম দেবেন। সেই ফর্ম পূরণ করে ভারতীয় নাগরিকত্বের সেলফ অ্যাটেস্টেট ঘোষণাপত্র-সহ সেটি ভোটারদের জমা দিতে হবে। এখন ভাবতেই পারেন, ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণস্বরূপ কোন নথি জমা দিতে হবে? বিহারের মতো বাংলার বাসিন্দাদের জন্যও মোট ১১টি নথি বাছাই করেছে নির্বাচন কমিশন, যার মধ্যে যে কোনও একটি থাকলেই ভোটার তালিকায় নাম উঠবে আবেদনকারীর। সেই ১১টি নথি কি কি?

• কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেন বা করেছেন কিংবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র।

• ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, LIC বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি।

• সরকার অনুমোদিত বা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া জন্ম সার্টিফিকেট।

• রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র।

• বাড়ির অথবা জমির দলিল।

• স্থানীয় প্রশাসনের তরফে পাওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার।

• জেলাশাসক বা সমতুল্য কোনো অফিসারের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দা সার্টিফিকেট।

• জাতিগত তথা কাস্ট সার্টিফিকেট।

• যে কোনও বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত মাধ্যমিক বা তার থেকে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট।

• কোনো নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্টার।

• পাসপোর্ট।

ন, শুধু এই ১১টি নথি নয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুসারে যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তারা নিজেদের পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড দেখাতে পারেন। তবে, এতে নাগরিকত্ব প্রমাণ হবে না। বরং, আধার কার্ডে সঙ্গে এই ১১টি নথির যে কোনো ১টি দেখাতে হবে বলেই জানিয়েছে কমিশন। উল্লেখ্য, ২০০২ সালে শেষবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে SIR হয়েছিল। তাই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পরিবারের কারও নাম নেই এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে কমিশন। আবার কোনো ভোটার তালিকায় নাম নেই, এমন ব্যক্তিদের নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে। অর্থাৎ, যাদের ভোটার তালিকায় ২০০২ সালের পর নাম উঠেছে তাদের অভিভাবকদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলে, অভিভাবকদের জন্য আলাদা কোনও নথি জমা দিতে হবে না। কেবল নিজেদের নথি দেখাতে হবে, যদি নিজেদের নথি না থাকে সেক্ষেত্রে অভিভাবকের নথিও দেওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *