ভোট উৎসবের আর কয়েক মাস বাকি। তার আগেই গোটা ভারত জুড়ে SIR চালু করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে শোনা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে অর্থাৎ কালীপুজোর পরেই নাকি বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন শুরু হতে চলেছে। যদিও এই প্রক্রিয়ায় সহমত গেরুয়া শিবির, কিন্তু বেঁকে বসেছে বাংলার শাসক দল। ফলে তৃণমূল SIR নিয়ে বিজেপি-কে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে চলছে। অবশেষে এমন আবহে বাংলায় SIR নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
দিন কয়েক আগেই বাংলায় SIR চালু করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলায় যদি SIR-এ কারও নাম বাদ যায় তাহলে তিনি আন্দোলন করবেন। আর এবার তৃণমূল সুপ্রিমো-র এই কথার জবাবে মুখ খুললেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিহারে একই হুমকি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা সত্বেও সেখানে SIR হয়েছে। আর তাই বাংলাতেও এটা হবে।” এখানেই না থেমে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে শাহ আরও বলেন, “দেশে এবারই প্রথম SIR হচ্ছে না। এটা ১৯৫৩ সালে শুরু হয়। অর্থাৎ, রাহুল গান্ধীর ঠাকুরমার বাবার সময়ে এটা শুরু হয়েছে। এমনকি, তার ঠাকুরমার সময়েও হয়েছে, তার বাবার সময়েও হয়েছে। আবার তার মায়ের সময়েও হয়েছে। হয়তো এই সত্যিটা রাহুলকে কেউ বলেননি। আসলে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য SIR হয়। ১০, ১২ কিংবা ১৭ বছর পর অনেক ভোটারেরই মৃত্যু হয়েছে বা কাজের জন্য অন্য জায়গায় হয়তো অনেকে চলে গেছেন। কিন্তু তাদের নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে। তাই ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য SIR-এর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।”
যদিও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বারংবার অভিযোগ তুলেছে, SIR-এর নামে নাকি মুসলিমদের বেছে বেছে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি। তবে এ বিষয়টি খোলসা করে এদিন শাহ সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জিজ্ঞেস করেন, “অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের কি ভোটাধিকার থাকা উচিত? শুধু মুসলমান বলে তাদের কি অন্যায় অধিকার দেওয়া উচিত?” এর পর তিনি বলেন, যারা অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ধর্মকে টানছেন তারা ভুল করছেন এবং তারা গণতন্ত্রের জন্য খুবই বিপজ্জনক। তবে, SIR আদৌ বাংলায় কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে এখন সেটাই দেখার।