দুটোতেই দাঁড়িয়ে দেখুন, আপনাকে হারিয়ে মজা পাব!উপনির্বাচনের আগে মমতাকে সজল ঘোষের খোলা চ্যালেঞ্জ !

পুজোর উৎসবের আগেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার নির্বাচনী ময়দান! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম এবং হুমায়ুন কবীরের কেন্দ্র রেজিনগরে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মাটিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিরোধী শিবিরকে সোজাসুজি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বোমা ফাটালেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে সজলবাবু স্পষ্ট হুঙ্কার দিলেন— “রেজিনগর আর নন্দীগ্রাম, দুটো আসনেই তৃণমূলনেত্রী প্রার্থী হয়ে দাঁড়ান! তাঁকে দুই কেন্দ্রেই হারিয়ে আমরা মজা পেতে চাই। আর যদি নিজে দাঁড়াতে ভয় পান, তবে ওনার ভাইপোকে অন্তত একটা আসনে প্রার্থী করে ময়দানে নামান!”

বিজেপির এই আক্রমণাত্মক মেজাজের বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। দলের প্রতীক ও নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দরবারে দুই শিবিরের দড়ি টানাটানি এখনও মেটেনি। একদিকে কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে কোনো হেলদোল বা তৎপরতা চোখে পড়ছে না, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরও প্রতীক সংকটের কারণে কার্যত নিশ্চুপ। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আসলে কে হতে চলেছে, সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

বিরোধী শিবিরের এই বিভ্রান্তির পুরো সুযোগ নিয়ে প্রচারে বহু দূর এগিয়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবির। খোদ শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করে দিয়েছেন— উপনির্বাচনেও বিপুল মার্জিনে ফুটে উঠবে পদ্মফুল। ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলের উপস্থিতিতে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে মেগা রণকৌশল বৈঠক সেরে ফেলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে পদ্মশিবির। নন্দীগ্রামের মতো প্রেস্টিজ ফাইটে কোনো বহিরাগত নয়, বরং ঘরের ভূমিপুত্রকে সামনে রেখেই লড়াইয়ের ছক কষা হয়েছে। তালিকায় জোর চর্চায় রয়েছে জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল এবং দুই জেলা সহ-সভাপতি অঞ্জন ভারতী ও প্রলয় পালের নাম। রাজ্য বিজেপির তরফে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্রের সম্ভাব্য নামের তালিকা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন কেবল দিল্লির সবুজ সংকেত মেলার অপেক্ষা। সব মিলিয়ে, বিরোধীদের গৃহযুদ্ধ আর বিজেপির আগ্রাসী প্রস্তুতির মাঝে সজল ঘোষের এই নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ উপনির্বাচনের পারদকে এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *