ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় এলে গরিব মানুষের হক কীভাবে তাঁদের হাতে পৌঁছে যায়, দেখুন তার আরও এক অনন্য প্রমাণ। পিসি-ভাইপোর আমলে যে সমস্ত দক্ষ অথচ প্রান্তিক কারিগররা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে চোখের জল ফেলতেন, এবার তাঁদের মূল অর্থনৈতিক স্রোতে ফিরিয়ে আনতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন বিজেপি সরকার। আগামী ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হতে চলেছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলায় কুটির শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল তৃণমূলের তোষণের রাজনীতি। তাঁতি, কুমোর, কামার, ছুতার থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রি, দর্জি বা চর্মকারদের মতো সনাতনী শ্রমজীবী মানুষদের কপালে জুটেছিল স্রেফ অবহেলা আর বঞ্চনা। মমতা-অভিষেকের সরকার এই গরিব মানুষদের আধুনিক প্রযুক্তি বা আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে সিন্ডিকেটের চাদরে মুড়ে রেখেছিল। কিন্তু শুভেন্দুজির সুশাসনে আজ দিন বদলেছে। এবার থেকে বাংলার কোণায় কোণায় ১৮টি সনাতনী পেশার সাথে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মেহনতি মানুষ পাবেন তাঁদের যোগ্য সম্মান ও অধিকার। চলুন দেখে নিই, এই প্রকল্পে আবেদন করলে বাংলার কারিগররা ঠিক কী কী অভাবনীয় সুবিধা পাবেন।
প্রথমত, নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করাতে এবং কাজের মান আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ বা স্কিল ট্রেনিং। আর সবথেকে বড় ধামাকা হলো, এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন যাতে কারিগরদের রুজি-রুটিতে টান না পড়ে, তার জন্য প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে আর্থিক স্টাইপেন্ড সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে সরকার! এখানেই শেষ নয়, সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করার পর আধুনিক এবং উন্নতমানের কাজের সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সরকার এককালীন ১৫,০০০ টাকার আর্থিক অনুদান বা টুলকিট ইনসেনটিভ দেবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে! এর পাশাপাশি, নিজের ব্যবসাকে আরও বড় করার জন্য কোনো গ্যারান্টি ছাড়াই দুই দফায় মোট ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গ্যারান্টিহীন ঋণ পাওয়া যাবে অত্যন্ত কম সুদে। প্রথম দফায় ব্যবসা শুরুর পুঁজি হিসেবে ১৮ মাসের জন্য মিলবে ১ লক্ষ টাকা, আর তা শোধ করলেই দ্বিতীয় দফায় ৩০ মাসের মেয়াদে মিলবে আরও ২ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত ঋণ।
কীভাবে আবেদন করবেন এই প্রকল্পের জন্য? (GFX)
আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই করা যাবে। অফলাইনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে তাঁর বাড়ির নিকটবর্তী ‘কমন সার্ভিস সেন্টার’ বা সিএসসি (CSC) কেন্দ্রে গিয়ে আধার কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। আর অনলাইনে করতে চাইলে সরাসরি যেতে হবে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট pmvishwakarma.gov.in-এ। সেখানে লগইন অপশনে গিয়ে ‘Applicant/Beneficiary Login’ বেছে নিয়ে আধার লিঙ্কড মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দিয়ে সুরক্ষিতভাবে নিজের পেশা ও ব্যাংক ডিটেইলস পূরণ করে ফর্মটি সাবমিট করলেই কেল্লাফতে!
তৃণমূলের চুরির জমানায় যে টাকা নেতাদের পকেটে যেত, আজ শুভেন্দুজির জমানায় সেই টাকা সরাসরি যাচ্ছে গরিবের অ্যাকাউন্টে। ১ জুনের পর থেকেই ব্লক ও পৌরসভা স্তরে এই নিয়ে জোরকদমে কাজ শুরু হতে চলেছে। তোষণের অন্ধকার পেরিয়ে মোদী-শুভেন্দুর ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে বাংলার হস্তশিল্প ও কুটির শিল্প আজ আসলেও এক নতুন এবং স্বাবলম্বী ভোরের আলো দেখছে। আপনার কী মনে হয়? ১ জুন থেকে এই পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা চালু হলে কি বাংলার কুটির শিল্পী ও সাধারণ মেহনতি মানুষের দিন আসলেও বদলে যাবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।