পুজোর মরশুমে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৩ হাজার টাকা করার পর, এবার উৎসবের মাসে কারা এই সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে নির্দেশিকা একদম পরিষ্কার করে দিল প্রশাসন। তবে একই সাথে যোগ্য প্রাপকদের চিহ্নিত করতে প্রশাসন যে এবার আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে, তা কিন্তু স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
যদি আপনার মনে প্রশ্ন থাকে যে অক্টোবর মাসেই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার সেই টাকা ঢুকবে কি না, তবে এই খবরটি একদম আপনার জন্যই!
রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বদলে গিয়েছে এই বিশেষ সামাজিক প্রকল্পের সমীকরণ। আগে যেখানে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পেতেন, বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই ভাতার অঙ্ক দ্বিগুণ বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ৩ হাজার টাকা করেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই রাজ্যের বহু যোগ্য মহিলা তাঁদের অ্যাকাউন্টে এই ৩ হাজার টাকার ভাতা পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু অক্টোবর অর্থাৎ পুজোর মাসে কারা এই টাকা পাবেন আর কাদের অপেক্ষা করতে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা বিভ্রান্তি। সেই সব জল্পনায় জল ঢেলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এবার বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেছেন।
বর্ধমান জেলার এক প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১ কোটি ৫৮ লক্ষ যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বর্ধমান জেলার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, কেবল ওই একটি জেলাতেই ১২ লক্ষেরও বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। তার মধ্যে ১১ লক্ষ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন প্রাথমিক তদন্তের পর অনুমোদন পেয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১ জন মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা চলেও গিয়েছে।
তবে যাঁরা আবেদন করা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে টাকা পাননি, তাঁদের কিন্তু একদম চিন্তার কিছু নেই। কারণ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাকি সমস্ত আবেদনপত্রগুলির অত্যন্ত কড়া এবং নির্ভুল যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। প্রকল্পের শর্ত মেনে যাঁরা সম্পূর্ণ যোগ্য বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে আগামী অক্টোবর মাসেই বকেয়া ও চলতি ভাতার ৩ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের বার্তা একদম পরিষ্কার—ভুয়ো আবেদন রুখতে কড়াকড়ি বাড়লেও, রাজ্যের প্রকৃত যোগ্য কোনো মহিলাই এই সুবিধার থেকে বঞ্চিত হবেন না।
উৎসবে মুখে অন্নপূর্ণা যোজনার এই টাকা বহু সাধারণ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চলেছে। সরকারের দেওয়া এই ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পুজোর কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় খরচে কত বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে, তা বলা বাহুল্য। আপনার অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন মঞ্জুর হলো কি না এবং পুজোর আগেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে কি না, সেদিকেই এখন নজর লাখ লাখ আবেদনকারীর!