স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হবে, সামনে থেকে কথা বলা বা হাত মেলানোর সুযোগ মিলবে— এমনটা হয়তো ঘুনাক্ষরেও ভাবেননি দক্ষিণ কলকাতার গার্ডেনরিচের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সি বুলবুলদেবী। শনিবার কলকাতার ইসকন মন্দিরে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মেগা কিচেন ও মিড-ডে মিল বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যের নব্য মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধান অতিথি হিসেবে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আর সেখানেই প্রবীণ নাগরিক ও ইসকনের ভক্ত বুলবুলদেবীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভাবনীয় সাক্ষাৎ গোটা অনুষ্ঠানপ্রাঙ্গণে এক দারুণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
এই সুন্দর মুহূর্তটি গড়ে ওঠার নেপথ্যে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেন বালিগঞ্জের বিধায়িকা শতরূপা মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান চলাকালীন জায়ান্ট স্ক্রিনে যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য সম্প্রচারিত হচ্ছিল, সেখানে ইসকনের গুরুর কথা শুনে পাশে বসে থাকা প্রবীণ বৃদ্ধার চোখে জল দেখে এগিয়ে যান শতরূপা। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ শেষ হতেই তিনি গিয়ে বিষয়টি শুভেন্দু অধিকারীকে জানান। সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ ও মানবিক মুখ্যমন্ত্রী বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে তৎক্ষণাৎ ওই বৃদ্ধার কাছে এগিয়ে গিয়ে তাঁর সাথে পরম স্নেহে হাত মেলান ও খোঁজখবর নেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই অভাবনীয় স্নেহ ও উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে সম্পূর্ণ আপ্লুত হয়ে পড়েন বুলবুলদেবী। তিনি জানান, বহু বছর আগেই তিনি ইসকনে দীক্ষিত হয়েছিলেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও যে তাঁর মতোই ইসকনের একজন একনিষ্ঠ দীক্ষিত অনুগামী— তা জেনে তিনি সত্যি অভিভূত। সাধারণ মানুষের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর এমন সহজ-সরল মেলামেশা ও সহমর্মিতা যে বাংলার প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করল, এদিনের ঘটনার পর ইসকন প্রাঙ্গণের উপস্থিত প্রত্যেকের মুখেই ছিল সেই প্রশংসা। তো সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সুশাসনের এমন যুগলবন্দী সত্যি এক উন্নত ও প্রগতিশীল বাংলার রূপরেখাকে ফুটিয়ে তোলে।
