বাংলায় এবার আইনের শাসন, কোনো শাসকের আইন নয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই ধমক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, উত্তরপ্রদেশের মতোই এবার বাংলাতেও চলবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। তোষণের দিন শেষ, এবার হবে প্রকৃত সুশাসন। ধর্মীয় স্থানে মাইকের তাণ্ডব আর রাস্তা আটকে জমায়েত—যে ব্যাধিতে গত কয়েক বছর ধরে বাংলার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল, তাতে এবার দাঁড়ি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে তাঁর কড়া নির্দেশ—সে মন্দির হোক বা মসজিদ, লাউডস্পিকারের আওয়াজ যেন চত্বরের বাইরে না যায়। শব্দদূষণ আর যানজট রুখতে কোনো আপস করা চলবে না। রাস্তা আটকে প্রার্থনা বা সভা? নৈব নৈব চ! সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনো ধর্ম পালন করা চলবে না—শুভেন্দুর এই বার্তায় কেঁপে উঠেছে অশুভ শক্তিগুলো।
তৃণমূল জমানায় বিশেষ এক ভোটব্যাংককে খুশি করতে আইনের যে বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল, শুভেন্দু সরকার তা পাল্টে দিয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি থেকে শুরু করে পণ্ডিত সমাজ—সবাই একসুরে বলছেন, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, তা যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়। যারা এতদিন অশান্তি পাকিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চেয়েছিল, তাদের সব রাস্তা বন্ধ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, উন্নয়নের জোয়ার আনতেও প্রথম ক্যাবিনেট থেকেই ছক্কা হাঁকিয়েছেন শুভেন্দু। যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পকে বাংলার মানুষের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল বিগত সরকার, সেই স্বাস্থ্য বিমার দরজা এবার খুলে গেল সবার জন্য। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। এবার আর অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার মাটি ব্যবহার করতে পারবে না।
এই সরকার কেবল উন্নয়নের নয়, এই সরকার কৃতজ্ঞতারও। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে তৃণমূলের হাতে প্রাণ হারানো ৩২১টি বিজেপি পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি সরকারি চাকরির বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আরও ৫ বছর বাড়িয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছেন তিনি। উজ্জ্বলা যোজনা থেকে পিএম বিশ্বকর্মা—দিল্লির সব সুবিধা এখন সরাসরি পৌঁছাবে বাংলার প্রতিটি ঘরে। বিনিয়োগ আসবে, শিল্প হবে আর সুরক্ষিত থাকবে মা-বোনেদের সম্মান। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলা এখন সোনার বাংলা হওয়ার পথে। যারা ভেবেছিল সিন্ডিকেট রাজ আর কাটমানি দিয়ে আজীবন শাসন করবে, তাদের জন্য উত্তরপ্রদেশ থেকে ‘যোগী মডেল’ আমদানি করে ফেলেছেন বাংলার নতুন সেনাপতি। ধর্মীয় স্থানে মাইক নিয়ন্ত্রণ আর রাস্তা আটকে জমায়েত বন্ধ করে কি শুভেন্দু অধিকারী এক সঠিক সাহসী পদক্ষেপ নিতে চলেছেন? উত্তরটা সময় দেবে।
