হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকদিন। তারপরই ঢাকে কাঠি পড়বে, শুরু হবে বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। কিন্তু এবারের দুর্গাপুজো শুধু উৎসবের জন্য নয়, নজরে থাকবে আরও একটি কারণে। কারণ, পালাবদলের পর বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকারের অধীনে হতে চলেছে দুর্গাপুজো। আর তার মধ্যেই পুজোর অনুদান নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। এবার কি আগের মতো রাজ্যের সব পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়া হবে? নাকি বদলাতে চলেছে নিয়ম? প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার আগে এবার পুরনো হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সেই কাজেই নেমেছে পুলিশ প্রশাসন।
জানা যাচ্ছে, প্রতিটি থানা এলাকায় যে যে দুর্গাপুজো কমিটি অতীতে সরকারি অনুদান পেয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শুধু তালিকা তৈরি করলেই হবে না, সেই অনুদানের টাকা কোথায়, কীভাবে খরচ করা হয়েছিল, তার হিসাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, গতবারের অনুদানের টাকা ঠিকমতো খরচ হয়েছিল কি না, খরচের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল রয়েছে কি না—সেই সমস্ত বিষয়ই এবার প্রশাসনের নজরে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।হিসাবে গরমিল ধরা পড়লে কী হবে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোনও পুজো কমিটির আগের অনুদানের হিসাব যথাযথ না হলে, সেই কমিটিকে এবার অনুদানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।এদিকে আগামী সোমবার কলকাতার দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এই বৈঠকের পরেই অনুদান নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যারা সত্যিই অনুদানের টাকার উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করেন, তাঁদের অনুদান দেওয়া হবে। কিন্তু যাদের অনুদানের প্রয়োজন নেই, তাদের ক্ষেত্রে সরকার অন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই বক্তব্য থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছে, বড় বাজেটের পুজোগুলি হয়তো এবার আগের মতো সরকারি অনুদান নাও পেতে পারে।
অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত ছোট পুজো কমিটি, যাদের বাজেট নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে, তাদের অনুদানের আওতায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঠিক কত টাকার বাজেটের নীচে থাকা পুজো কমিটিগুলি অনুদান পাবে, আর অনুদানের পরিমাণই বা কত হবে এই মুহূর্তে তা স্পষ্ট নয়। দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে ক্লাবগুলির যাতে আর্থিক সমস্যা না হয়, সেই কথা মাথায় রেখে ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম বছর প্রতিটি ক্লাবকে দেওয়া হয়েছিল ১০ হাজার টাকা।
সেই সময় সরকারি অর্থ পুজোয় কেন দেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কিন্তু বিতর্ক সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি অনুদান। বরং বছরের পর বছর অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটির অনুদান বেড়ে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।
আর সেই হিসাব অনুযায়ী, গত বছর রাজ্য সরকারের মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ৪৯৮ কোটি ৬৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। এবার সেই বিশাল অঙ্কের অনুদান ব্যবস্থাতেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
