নেপাল রণক্ষেত্র হয়ে উঠতেই সকলে সে দেশটিকে বাংলাদেশের সঙ্গেই তুলনা করেছিল। যদিও আন্দোলনের কারণ ভিন্ন ছিল! কিন্তু দেশের পরিস্থিতি প্রায় একই হয়ে উঠেছিল। আজ থেকে এক বছর আগে জুলাই মাসে বাংলাদেশের যে রূপ দেখেছিল গোটা বিশ্ব, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালেও সেই একই রূপ দেখলো গোটা বিশ্ব। যদিও অনেকের দাবি, ভারতকে নাকি চাপে রাখতেই প্রতিবেশী দেশগুলোকে এমন উত্তপ্ত করে তুলছে মার্কিন সরকার প্রদত্ত গোয়েন্দা সংস্থা CIA। তবে, এই দাবি কতটা মিথ্যে আর কতটা সত্যি, তা তো সময়েই বোঝা যাবে। কিন্তু এসবের আগেই এক দারুণ নিদর্শন গড়লেন নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কি।
গত শুক্রবার রাতে নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন সুশীলা আর এরপরই ভারতের গুণগান শোনা যায় তার গলায়। নেপালের বর্তমান প্রধান জানিয়েছিলেন, ভারতের প্রতি তার অসীম শ্রদ্ধা এবং সম্মান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিরও ঢালাও প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি, এ দেশের নেতা-মন্ত্রীরা তাকে অনুপ্রেরণা যোগায় এমনটাও জানিয়েছিলেন সকলকে। আর এরপরই দেশের মসনদে বসার একদিনের মধ্যেই ভোটের তারিখ ঘোষণা করলেন হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র-র প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তথা বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রধান কার্কি। তার ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছর ৫ই মার্চ সরকার গঠনের নির্বাচন হতে চলেছে সে দেশে।
উল্লেখ্য, ৭৩ বছর বয়সী সুশীলা নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এর আগে তিনি ওই দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতিও ছিলেন। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় এক বছর তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। আর এবার জেন জি দের দাবি মেনেই দেশের দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন তিনি। এর আগে অবশ্য অনেকেরই নাম সামনে এসেছিল কিন্তু তার মধ্যে থেকেও তরুণ প্রজন্মের আড়াই হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর পাওয়া সমর্থনে এই দায়িত্বের অধিকারী হয়েছেন সুশীলা। আর এরপরই রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নিয়ে ক্ষমতায় আসেন তিনি এবং তার পরের দিনই দেশের স্বার্থে ভোটের তারিখ ঘোষণা করে দিলেন। হ্যাঁ, ইউনূস সরকার যা করতে পারেনি, তা নেপাল সরকার করে দেখিয়ে দিল দু’দিনে।
