শ্রীভূমির পুজো উদ্বোধনে বড় বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর, ১৮ তারিখ বাংলায় আসছেন ‘বিশেষ’ অতিথি! মোদি-শাহকে ঘিরে জল্পনা।

দুর্গাপুজোর আবহে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মণ্ডপ উদ্বোধনকে ঘিরে এমনিতেই ছিল বাড়তি নজর। আর এবার সেই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হল নতুন জল্পনা। ১৮ অক্টোবর বাংলায় আসতে পারেন এক ‘বড় ব্যক্তি’—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে কে আসছেন, সেই নাম প্রকাশ্যে জানাননি মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার শ্রীভূমির পুজো উদ্বোধনে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৮ তারিখ একজন বড় ব্যক্তিকে নিয়ে আসবেন তিনি। ওই অতিথি সকালে বেলুড়ের পুজোয় যাবেন এবং বিকেলে শ্রীভূমিতে এসে আরতিতে অংশ নেবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেখানেই রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, অতিথির নাম তিনি নিজে বলবেন না। আয়োজকরাই সেই নাম ঘোষণা করবেন।

আর এই বক্তব্যের পরেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কে সেই বিশেষ অতিথি? রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অতিথির পরিচয় বা ১৮ অক্টোবরের সফরসূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে আপাতত পুরো বিষয়টিই রয়েছে জল্পনার পর্যায়ে।

এদিকে শ্রীভূমির পুজো উদ্বোধনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুজোর সময় নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, অতীতে পিতৃপক্ষে এখানে পুজোর উদ্বোধন হওয়ায় তাঁর খারাপ লাগত। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়, সনাতন পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর এই অনুভূতি ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এবার অবশ্য দেবীপক্ষেই শ্রীভূমির পুজোর উদ্বোধন হয়েছে। রাজস্থানের হাওয়ামহলের আদলে তৈরি করা হয়েছে এবারের মণ্ডপ। ফলে মণ্ডপের থিমের পাশাপাশি উদ্বোধনে সম্ভাব্য বিশেষ অতিথিকে ঘিরেও দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

শুধু পুজোর উদ্বোধন নয়, অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে রাজ্যের দুর্গাপুজোর সংখ্যা নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এ বছর রাজ্যে ১২ হাজার ৪০০টি নতুন দুর্গাপুজো হয়েছে। পাশাপাশি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্মরণে মূর্তি বসানো এবং রাস্তার নামকরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শ্রীভূমির পুজো নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, কারও জন্য কোনও কাজ আটকে থাকে না। পুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রীভূমির পুজো হচ্ছে—এই বিষয়টিকেও তিনি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাজের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করেন।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—১৮ অক্টোবর বাংলায় আসছেন সেই ‘বিশেষ’ অতিথি কে? কারণ মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট, অতিথির সফর ঘিরে একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচি রয়েছে। সকালে বেলুড়, বিকেলে শ্রীভূমি—এই দুই জায়গায় তাঁর উপস্থিতির ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু নাম প্রকাশ্যে না আসায় জল্পনা থামছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নাকি অমিত শাহ—নাকি অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব? সেই উত্তর এখনই মেলেনি। আয়োজকরাই নাম ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফলে ১৮ অক্টোবর যত এগিয়ে আসবে, শ্রীভূমির পুজোর আরতি ঘিরে ততই বাড়বে আগ্রহ। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সেই ‘বড় ব্যক্তি’ কে, আর তাঁকে ঘিরে কী চমক অপেক্ষা করছে—এখন নজর সেদিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *