রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এবার কি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজের জায়গা পাকা করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী? দিল্লিতে বসছে ব্রিকসের মতো হাইভোল্টেজ সম্মেলন। আর সেই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নৈশভোজে একসঙ্গে হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান। সেই বিশেষ নৈশভোজে আমন্ত্রিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও। ফলে শুভেন্দুর দিল্লি সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের উদ্বোধন এবং প্রথম দিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ নৈশভোজের। সেখানেই বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ একই টেবিলে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং একাধিক শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে থাকার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সামনে।
কিন্তু এই নৈশভোজ কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ? নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কূটনৈতিক সম্ভাবনা? পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি হলে কী কথা বলতে পারেন শুভেন্দু? বাংলার শিল্প, বিনিয়োগ, জ্বালানি বা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন কোন বিষয় কি উঠে আসতে পারে আলোচনায়? আবার শি জিনপিং কিংবা পেজেশকিয়ানের মতো নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও, আন্তর্জাতিক রাজনীতির এমন মঞ্চে প্রতিটি কথোপকথনেরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।শুভেন্দুর এই সফরকে ঘিরে তাই শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, শিল্পমহলেও নজর বাড়ছে। কারণ ব্রিকস সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি মানেই বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলা। বদলের বাংলায় শিল্পায়নকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার যে বার্তা দিতে চাইছে, দিল্লির এই সফর তারই বড় মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে
আর এখানেই শেষ নয়। দিল্লির কর্মসূচি শেষ করে শুভেন্দু সরাসরি মুম্বই যেতে পারেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেখানে রিলায়েন্স কর্তা মুকেশ আম্বানির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও বৈঠকের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। বাংলায় শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে রাজ্যে টেনে আনার লক্ষ্যে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একদিকে দিল্লিতে পুতিন-জিনপিং-পেজেশকিয়ানদের মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে মুম্বইয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর কর্তার সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক। ফলে শুভেন্দুর এই সফরকে শুধুমাত্র একটি সরকারি সফর হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থেকে শিল্প বিনিয়োগ দুই দিকেই নিজের সক্রিয় উপস্থিতি জানান দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।তাহলে কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এবার জাতীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নিজের পরিচিতি তৈরি করতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী? ব্রিকসের নৈশভোজে পুতিন-জিনপিংদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিতি, আর তার পরেই শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক পরপর এই দুই কর্মসূচি ঘিরে তাই প্রশ্ন একটাই, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর কি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা, নাকি এর পিছনে রয়েছে বদলের বাংলাকে আন্তর্জাতিক ও শিল্পমহলের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরার বড় পরিকল্পনা?