পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। রাজ্যের গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে প্রতিটি আসন, প্রতিটি ঘর, এমনকি প্রতিটি চেয়ারও বহন করে আলাদা রাজনৈতিক ইতিহাস। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট একটি চেয়ার বরাদ্দ থাকে। বছরের পর বছর ধরে সেই চেয়ার ব্যবহার করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ক্ষমতা বদলায়, সরকার বদলায়, কিন্তু অনেক সময় ঐতিহ্য একই থেকে যায়। আর সেই ঐতিহ্যেরই কেন্দ্রবিন্দু এখন একটি চেয়ার। বিধানসভা সূত্রে খবর, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাকি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ারে বসবেন না।
বরং মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও তিনি ব্যবহার করতে চান নিজের পুরনো চেয়ারটি। যে চেয়ারে বসে গত পাঁচ বছর তিনি বিরোধী দলনেতা হিসেবে সরকারকে আক্রমণ করেছেন, আন্দোলন করেছেন, রাজনৈতিক লড়াই চালিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী ঐতিহ্য ভেঙে নিজের লড়াইয়ের জীবনের স্মৃতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। আর সেই কারণে বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি গত পাঁচ বছর যে চেয়ারে বসেছিলেন এখনও সেই চেয়ারেই বসতে চান। সেই চেয়ারটি নিজের ঘরে রেখেছেন। রাজনীতিতে প্রতীক খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন একেবারে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে। কারণ, বিরোধী দলনেতার চেয়ার মানে শুধুই একটা বসার জায়গা নয়। সেটা তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতি। ক্ষমতার বাইরে থেকেও নিজের অবস্থান তৈরি করার ইতিহাস।
কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ঐতিহ্যবাহী চেয়ার এখন কোথায়? সূত্রের খবর, যে চেয়ারে গত পনেরো বছর বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটি এখন আর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে নেই। সেই চেয়ার নাকি স্থান পেয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরে। আর এখান থেকেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বর্তমান বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কি সেই চেয়ারে বসবেন? নাকি চেয়ারটিকে সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করে রাখা হবে? এখনও পর্যন্ত এই প্রশ্নে মুখ খোলেননি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনিই বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের চেয়ারের বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি ব্যবহারও করতে পারেন। আবার পাশে সরিয়ে সস্মানে যত্ন করে রেখেও দিতে পারেন। নিজের জন্য একটি নতুন চেয়ারের ব্যবস্থাও করতে পারেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর এই চেয়ার বদলকে নিছকই আসবাব পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। অনেকেই মনে করছেন, শুভেন্দু নিজের চেয়ার মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে নিয়ে গেছেন, এর অর্থ নিজের জীবনের লড়াইয়ের দিনগুলির কথা স্মরণ রাখার জন্য পাশাপাশি অতীতেও গুরুত্ব দেওয়ার প্রতীকী বার্তাও হতে পারে।
Br