Tears of joy welled up in the eyes of a destitute bicycle mechanic from Purulia today upon reaching the Chief Minister's public grievance hearing!

মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে পৌঁছাতেই পুরুলিয়ার দুস্থ সাইকেল মিস্ত্রির চোখে আজ আনন্দের জল!

বিগত জমানার প্রশাসনিক উদাসীনতা ও লালফিতের ফাঁসে আটকে থাকা সাধারণ মানুষের ১২ বছরের অন্ধকার যে মাত্র ১২ দিনেই দূর হতে পারে— তা নিজের চোখে দেখে অঝোরে কেঁদে ফেললেন পুরুলিয়ার দুস্থ সাইকেল মিস্ত্রি কৃষ্ণ বাউরি। সুশাসন আর সদিচ্ছা থাকলে সরকারের পরিষেবা কীভাবে একদম শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, তার এক অনন্য ও মানবিক নজির তৈরি হলো মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে। পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার লৌলাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ বাউরি দীর্ঘ ১২ বছর আগে নিজের বাড়িতে একটি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও পূর্বতন জমানায় তাঁর ঘরে আলো জ্বলেনি।

অবশেষে আশা হারিয়ে গত ১৩ই জুলাই সল্টলেকে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ পৌঁছান কৃষ্ণ বাউরির স্ত্রী কল্পনা বাউরি ও তাঁর মেয়ে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে নিজেদের ১২ বছরের বঞ্চনার কথা নথিভুক্ত করান তাঁরা। বিষয়টি জানামাত্রই জনতার দরবার থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কালবিলম্ব না করে পুঞ্চা থানার পুলিশ, স্থানীয় বিডিও এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের স্টেশন ম্যানেজার যৌথভাবে জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিবাদ মেটাতে প্রশাসনিক হিয়ারিংয়ের আয়োজন করেন। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে, জনতার দরবারে আবেদন জানানোর ঠিক ১২ দিনের মাথায় শুক্রবার বিদ্যুৎ কর্মীরা গিয়ে কৃষ্ণ বাউরির ঘরে আলো জ্বালিয়ে দেন।

১২ বছর পর ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলতেই কান্না ধরে রাখতে পারেননি কৃষ্ণ বাউরি ও তাঁর পরিবার। কৃষ্ণবাবুর স্ত্রী কল্পনাদেবী আবেগপ্লুত হয়ে জানান, এতদিন লম্ফ ও হ্যারিকেনের কুপির আলোয় রাতের রান্না থেকে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা— সব চালাতে হতো। আলোর অভাবে পড়ালেখা করতে না পেরে গত বছর ছেলেটি মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হয়েছিল, কিন্তু ঘরে বিদ্যুৎ আসতেই সেই ছেলে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে এবং এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তো তোষণ ও অপশাসনের পুরোনো সংস্কৃতিকে বিদায় জানিয়ে, সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে এমন দ্রুত ও প্রত্যক্ষ সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সরকারের এই মানবিক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সত্যিই এক উন্নত, আলোকিত ও সুশাসিত বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *