উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের উৎসাহ দেওয়া এবং কলেজছাত্রীদের ড্রপআউট কমানোর লক্ষ্য নিয়ে রাজ্য সরকারের নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের কথা সামনে এসেছে। এই প্রকল্পে সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া অবিবাহিত ছাত্রীদের মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কলেজে প্রথম বর্ষে এই স্কলারশিপে ছাত্রীদের ১৭ হাজার টাকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বর্ষেও ১৭ হাজার টাকা মিলবে। তৃতীয় বর্ষে মিলবে ১৬ হাজার টাকা। মোট ৫০ হাজার টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হবে।
মূলত, উচ্চ শিক্ষায় ছাত্রীদের মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতাকে লক্ষ্য করেই এই স্কলারশিপ চালু করেছে রাজ্য সরকার। বাজেটে বলা হয়েছিল উচ্চশিক্ষায় মেয়েরা যাতে উৎসাহ পান তার জন্যেই এবার থেকে অবিবাহিত মেয়েদের জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব রেখেছে রাজ্য সরকার। এই খাতে বাজেটে মোট ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে রাজ্যের কোনও সরকারি ও সরকারি সাহায্য বা অনুদান প্রাপ্ত কলেজে স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হলে ৫০,০০০ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের টাকা পেতে কী কী প্রাথমিক শর্ত দেখা হবে, তাও বাজেট ঘোষণায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী দাশগুপ্ত। কী কী মানদণ্ড থাকলে তবেই ছাত্রীরা পাবেন এককালীন মোটা অঙ্কের এই আর্থিক অনুদান?
১) অবিবাহিত (ছাত্রীকে অবিবাহিত হতে হবে )
২) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে স্নাতক স্তরে ভর্তি হতে হবে ওই ছাত্রীকে।
৩) মাসে মাসে কোনও টাকা পাওয়া যাবে না। এই কর্মসূচিতে সব মিলি.য়ে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সরকারি সাহায্য পাবেন ছাত্রীরা।
৪) মূলত উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের উৎসাহ দিতে ও সার্বিক ভাবে ড্রপ আউট কার্যকরীভাবে কমাতেই এই সিদ্ধান্ত
এখনও পর্যন্ত এই স্কিমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়নি। নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমেই এই আবেদন নেওয়া হবে বলেই সূত্রের খবর। এর জন্য পোর্টাল চালু করা ও সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডক্যুমেন্ট ইত্যাদি এবং পরিচয়পত্র হিসেবে কী কী লাগবে তা দ্রুত জানিয়ে দেবে সংশ্লিষ্ট কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দফতর। এই সংক্রান্ত গাইডলাইন্স সরকার শীঘ্রই নির্দেশ দিয়ে জানাবে। আলাদা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বা সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী উপযুক্ত ছাত্রীর আবেদন দেওয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে অফলাইনে এলাকার প্রশাসনিক অফিস থেকে ফর্ম ফিল আপের ব্যবস্থা করা হবে খুব শিগগিরই। তথ্য সমীক্ষা করে তবেই আবেদন গৃহীত হবে আগামী দিনে।
এছাড়াও স্কুল পড়ুয়াদের বার্ষিক অনুদান ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরে আরও ৮০০টি স্মার্ট স্কুল চালু করার কথাও বলা হয়েছে। আর পড়ুয়াদের হাতে মোবাইল ফোন দেওয়ার বদলে এডুকেশন-রিলেটেড ট্যাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আগের ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘সারথি’ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এর জন্য প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।