রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন উত্তাল। জনতার রায়ে বদল এসেছে বাংলার ক্ষমতার মসনদে। বহু বছরের শাসনের পর নতুন সরকার গঠন করতে চলেছে রাজ্য। আর ঠিক এই সময়েই নবান্ন থেকে এল এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ—যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনই রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা আচমকা একটি বিশেষ নোটিশ জারি করেন। এই নোটিশে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে,
কোনও সরকারি অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা কাগজপত্র সরানো যাবে না। সরকারি নথি অন্য কোথাও স্থানান্তর বা আদান-প্রদান করতে হলে কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলতে হবে। শুধু তাই নয়, আরও একধাপ এগিয়ে বলা হয়েছে, কোনও নথির জেরক্স বা প্রিন্ট আউট করতে গেলেও নিতে হবে যথাযথ অনুমতি।
অর্থাৎ, সরকারি ডকুমেন্ট নিয়ে কোনওরকম ঢিলেমি বা অনিয়ম একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না—এটাই স্পষ্ট করে দিল প্রশাসন। এখন প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এমন কড়া পদক্ষেপ? আসলে, সরকার পরিবর্তনের সময় প্রশাসনিক স্তরে নানা রকম রদবদল হয়। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর স্থানান্তর, নথিপত্রের হস্তান্তর সবকিছুই এই সময়ে ঘটে। বাংলার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে নবান্ন। পাশাপাশি, রাইটার্স বিল্ডিংয়েও রয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক নথি। প্রায় ১৫ বছরের শাসনের পর যখন নতুন সরকার গঠনের পথে, তখন স্বাভাবিকভাবেই একটা আশঙ্কা তৈরি হয়, কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে
অথবা অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নির্দেশের মাধ্যমে মূলত তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন, সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা, নথির স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা, নতুন সরকারের কাছে সঠিক তথ্য হস্তান্তর। কারণ, একটি নতুন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন আগের প্রশাসনের সমস্ত কাজ, ফাইল ও নথির ওপর ভিত্তি করেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রথমবারের মতো ক্ষমতা এসেছে বিজেপি। নতুন সরকার গঠনের আগে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অনেকের কাছেই
তাৎপর্যপূর্ণ। কেউ কেউ মনে করছেন, এটা একেবারেই রুটিন সতর্কতা।আবার অনেকের মতে, পরিবর্তনের সময় কোনওরকম গাফিলতি এড়াতেই এই কড়া নজরদারি। সব মিলিয়ে, নবান্নর এই হঠাৎ নোটিশ এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয়।