অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ফর্ম ফিলাপ নিয়ে নানা বিভ্রান্তির খবর সামনে আসে। অনেকের অভিযোগ ছিল, কোথায় ফর্ম মিলবে, কীভাবে জমা দিতে হবে কিংবা বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা কীভাবে আবেদন করবেন—এসব নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, কেউ যেন কোনো গুজবে কান না দেন এবং কোনোভাবেই বিচলিত না হন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত উপভোক্তাদের একটি নির্ভুল ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা। যাতে প্রকৃত গরিব, অসহায় ও দুঃস্থ মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারি সাহায্যের অর্থ পৌঁছে যায়।
তবে শুধু সুবিধা প্রদানই নয়, প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি রুখতেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানেই শেষ নয়। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এর আগেও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অবৈধভাবে টাকা তোলার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে জমা পড়া প্রতিটি আবেদন ডিজিটাল পোর্টালে নথিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ব্যাক-এন্ডে চলবে একাধিক স্তরের তথ্য যাচাই। ফলে ভুল তথ্য, ভুয়ো নথি বা অসত্য তথ্য দিয়ে আবেদন করলে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে।
সরকার একদিকে যেমন দরজায় দরজায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির বার্তাও দিয়েছে। সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করতে মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিল রাজ্য সরকার। এখন দেখার, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন কতটা সফলভাবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে।
সরকারি সূত্রের দাবি, অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে একাধিক নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের কথা মাথায় রেখে ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনো উপভোক্তাকে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে না হয় এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি পরিষেবা পাওয়া যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হচ্ছে, প্রকল্প সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকেই যাচাই করতে হবে এবং গুজব বা ভুয়ো প্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মহিলা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং কর্মব্যস্ত মহিলাদের কাছে বাড়িতে গিয়ে ফর্ম পূরণের সুবিধা বড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দরজায় দরজায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ সরকারের জনমুখী ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। এখন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর কত দ্রুত এবং কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।
Br
