নিট বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা আদায়— যে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি রাজপথে আন্দোলন শুরু করেছিল, তার সবচেয়ে বড় সাফল্য হাসিল হওয়ার পর এবার রাজপথের রাজনীতিতেই সামনে এল এক অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ও বিস্বাদময় অধ্যায়। যে মানুষটি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিজের জীবন বাজি রেখে একটানা ২৬টি দিন অনশন চালচ্ছিলেন, সেই বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও আন্দোলনের প্রধান ধারক সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলন সফল হতেই কি বেমালুম ভুলে গেল ককরোচ পার্টি? শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর সামনে আসার পর সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে যেভাবে উল্লাসে ফেটে পড়ে সমস্ত কৃতিত্ব নিজের ঝুলিতে ভরতে চাইলেন, অথচ যে মানুষটি ২৬ দিন না খেয়ে নিজের শরীর নিঃশেষ করে দিলেন, তাঁর নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করলেন না— তাতে গভীর প্রশ্ন উঠে গিয়েছে রাজনীতি সচেতন মানুষের মনে।
মঞ্চে উঠে স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা ও দম্ভের সুরে “সুবহ হো গেয়ি মামু” বলে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন যে, আন্দোলন ও ‘আরশোলাদের’ শক্তির কাছে শেষমেশ সরকারকে ঝুঁকতেই হলো। নিটের প্রশ্নফাঁসে প্রাণ হারানো ২০ জন দুর্ভাগ্যবান পড়ুয়াকে স্মরণ করে এই জয় তাঁদের উৎসর্গ করলেও, যে ওয়াংচুক এই আন্দোলনের শিরদাঁড়া ছিলেন, তাঁকে ন্যূনতম একটি ধন্যবাদ পর্যন্ত জানাননি দীপকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনশন ভঙ্গ করার সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের হাত থেকে জল গ্রহণ করা বা ইস্তফার মূল দাবি থেকে সোনম ওয়াংচুকের সাময়িক সরে আসার বিষয়টি নাকি সিজেপির মনঃপূত হয়নি; এমনকি ওয়াংচুক বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করেছেন কি না— তা নিয়েও এক ধরণের সংশয় ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে।
তবে অভিজিৎ দীপকের এই সংকীর্ণ ও কৃতিত্ব দখলের রাজনীতির বিপরীতে সোনম ওয়াংচুকের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত ও অসামান্য। নিজের আত্মত্যাগের কোনো কৃতিত্ব নিজে না নিয়ে, বরং অত্যন্ত উদারভাবে সিজেপি, দেশের জেন-জি এবং ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে রাজপথে নেমে আসা প্রতিটি সাধারণ নাগরিককে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এটি কোনো ব্যক্তির জয় নয়, বরং এটি রাজপথ থেকে উঠে আসা গণতন্ত্র, ধৈর্য ও অদম্য সংকল্পের জয়। অনশনকারী বীরকে আড়ালে ঠেলে দিয়ে পুরো ক্রেডিট নেওয়ার এই কুরুচিকর চক্রান্ত যেমন সিজেপির আসল চেহারা উন্মোচিত করেছে, তেমনই অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুকের শান্ত ও সংবেদনশীল বার্তা প্রমাণ করেছে যে, আন্দোলনের প্রকৃত মহত্ত্ব কোনো অহংকারে নয়, সততাতেই বিরাজ করে।