The Election Commission has once again announced an election in Falta.

ফের ফলতায় নির্বাচনের ঘোষনা করল নির্বাচন কমিশন! ইভিএমে টেপ থেকে বন্ধ সিসিটিভি, ফলতায় ভোট চুরির চেষ্টা এমন আগে দেখেনি দেশ !

খসে পড়ল তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর মুখোশ! যে মডেলকে সুশাসনের উদাহরণ বলে বুক ফুলিয়ে প্রচার করত তৃণমূল, আজ নির্বাচন কমিশনের এক ধাক্কায় তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সবকটি বুথে ভোট বাতিল! আগামী ২১ মে ফের হবে ভোহণ। ২৯ এপ্রিল গণতন্ত্রের নামে যে তান্ডব চলেছিল, তার যোগ্য জবাব দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর এই রিপোলের ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমেছেন বিজেপির অমিত মালব্য। অভিষেকের অহংকার কি তবে এবার চুরমার হয়ে গেল?কেন এই চরম সিদ্ধান্ত? কারণ, ফলতায় ২৯ এপ্রিল যা হয়েছে, তাকে ভোট বলা যায় না। কমিশন খতিয়ে দেখেছে, ২৮৫টি বুথের মধ্যে প্রায় প্রতিটি বুথেই চলেছে নজিরবিহীন জালিয়াতি। কোথাও বিজেপির প্রতীকের বোতামে টেপ লাগিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে ভোটাররা চাইলেও পদ্ম চিহ্নে ভোট দিতে না পারেন। কোথাও আবার বোতামে লাগানো হয়েছিল আতর, যাতে চিহ্নিত করা যায় কে কাকে ভোট দিচ্ছেন!
অভিযোগ আরও মারাত্মক—বুথের ভেতরের ফুটেজ পর্যন্ত উধাও করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বুথের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেদার ছাপ্পা চালিয়েছে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। একটি নির্দিষ্ট দল ছাড়া অন্য কাউকে বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এক-একজন ব্যক্তি বারবার ঢুকে ভোট দিয়ে গিয়েছেন। এই কি অভিষেকের ‘ডায়মন্ড মডেল’? যেখানে মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়?ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণা হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তিনি সাফ জানিয়েছেন, অভিষেকের ‘ডায়মন্ড মডেল’ আজ চূর্ণবিচূর্ণ। জালিয়াতি করে জেতার যে ছক তৃণমূল কষেছিল, তা কমিশন ধরে ফেলেছে।
অন্যদিকে, পরাজয় নিশ্চিত বুঝে এবার কমিশনকে ‘হাতের পুতুল’ বলে আক্রমণ শুরু করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গুজরাটি গ্যাং থেকে শুরু করে দিল্লি—সবাইকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি কাজই ঠিকমতো হতো, তবে কমিশন কেন পুরো ভোট বাতিল করল? কেন প্রায় ৬০টি বুথে ইভিএম কারচুপি ধরা পড়ল? অভিষেকের এই দম্ভ আসলে তাঁর ভেতরকার ভয়কেই প্রকাশ করছে। এই লড়াইয়ে আসল জয় হয়েছে নির্বাচন কমিশনের। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলার মাটিতে অন্তত এবার আর রিগিং করে পার পাওয়া যাবে না। ২৩ শতাংশ ভোটারের রায় নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের জন্য ২১ মে এক অগ্নিপরীক্ষা। বিজেপি দাবি তুলেছিল, ফলতায় কোনো স্বচ্ছ ভোট হয়নি। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজে বিহারের ভোটের ছবি পর্যন্ত ঢুকিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল! কিন্তু কমিশনের সজাগ দৃষ্টি আর আইটি সেলের দেওয়া তথ্যে সব পর্দাফাঁস হয়ে গেছে। দিল্লি থেকে গডফাদার নয়, ২১ মে ফলতায় আসবে গণতন্ত্রের আসল প্রহরী—কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবার আর টেপ লাগানো ইভিএম নয়, মানুষের প্রকৃত রায়েই নির্ধারিত হবে ভাগ্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যতই চ্যালেঞ্জ করুন না কেন, ২১ মে ফলতার মানুষ শান্তিতে ভোট দিয়ে প্রমাণ করবেন তাঁরা আর কোনো ‘মডেল’-এর দাসে পরিণত থাকতে চান না। তৃণমূলের কারচুপির দিন এবার শেষ। ‘ডায়মন্ড মডেল’ কি তবে এবার ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে? ৪ মে-র রেজাল্ট আর ২১ মে-র রিপোল—সব মিলিয়ে পিসি-ভাইপোর সাম্রাজ্য এখন পতনের মুখে।

আপনার কী মনে হয়? ফলতায় কি এবার বিজেপি বাজিমাত করবে? অভিষেকের চ্যালেঞ্জের উত্তর কি ২১ মে দেবেন সাধারণ মানুষ? কমেন্টে আমাদের জানান। বাংলার ভোটের প্রতিটি খবরের সত্যতা জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *