The Ganges which millions of people flock to every year, will the Ganges change into a completely new form this time?

যে গঙ্গাসাগরে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে, সেই গঙ্গাসাগর কি এবার বদলে যাবে সম্পূর্ণ নতুন রূপে?

ধর্মীয় পর্যটনের মানচিত্রে গঙ্গাসাগরকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে বড় উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে গঙ্গাসাগরকে গড়ে তুলতে কেন্দ্রের PRASHAD প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা চেয়েছে রাজ্য। গত ১৫ জুলাই রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে গঙ্গাসাগরের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই উন্নয়নের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির করিডর প্রকল্পকে। কেন্দ্রের PRASHAD প্রকল্পের অধীনে মহাকাল মন্দির চত্বরের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে সেখানে পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার সেই সফল মডেলই গঙ্গাসাগরে বাস্তবায়ন করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গঙ্গাসাগরে একাধিক আধুনিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে,

রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু তীর্থযাত্রীদের সুবিধাই বাড়বে না, দেশ-বিদেশের আরও বেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। এর ফলে পর্যটন শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে। এই প্রকল্পের জন্য জনপথ নির্মাণ দফতর বা PWD একটি বিস্তারিত ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরি করবে। PRASHAD প্রকল্পের সমস্ত নির্দেশিকা মেনেই সেই রিপোর্ট তৈরি হবে। এরপর সেটি কেন্দ্রের কাছে জমা দিয়ে আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের জন্য ভিড় জমান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বহু পর্যটক এই তীর্থস্থানে আসেন। দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত পরিকাঠামোর দাবি উঠছিল। এবার সেই দাবিকে বাস্তব রূপ দিতে কেন্দ্রের সহায়তা চেয়েছে রাজ্য সরকার। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্র এই প্রস্তাবে কত দ্রুত সাড়া দেয় এবং PRASHAD প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাসাগরের উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুমোদন মেলে কি না। যদি সেই অনুমোদন আসে, তাহলে আগামী দিনে গঙ্গাসাগরও উজ্জয়িনীর মহাকাল করিডরের মতো বিশ্বমানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নতুন পরিচয় পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *