The high-handedness of civic volunteers was put to an end immediately after the change of guard in the state.

রাজ্যে পালা বদলের পরই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের দাদা গিরি খতম ! নিজেদের আইপিএস ভাবার দিন শেষ, এবার সোজা ময়লা পরিষ্কার!

বাংলার বুকে এক সময়ের ত্রাস এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চেনা প্রতীক সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের নিয়ে এবার এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর নতুন বিজেপি সরকার! বিগত তৃণমূল জমানায় যে সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের দাপটে সাধারণ মানুষের চোখে সর্ষেফুল দেখার জোগাড় হতো, আজ বঙ্গে সুশাসনের নয়া সূর্য উদিত হতেই বদলে গেল সেই চেনা ছবি। কাটমানি আদায় আর তোলাবাজির অন্ধকার অধ্যায় শেষ করে এবার এই বাহিনীকে সোজা নামানো হলো জনসেবা ও ময়লা পরিষ্কারের কাজে! কীভাবে রাতারাতি সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের ডানা ছাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? কেন এই সিদ্ধান্তকে দু’হাত তুলে স্বাগত জানাচ্ছে বাংলার আমজনতা?
বিগত তৃণমূল শাসনকালে এই সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অভিযোগ ছিল আকাশছোঁয়া। খোদ পুলিশ প্রশাসনের একাংশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই স্বেচ্ছাসেবকদের অনেকেই নিজেদেরকে এক একজন আইপিএস অফিসার ভাবতেন! রাস্তায় লরি-গাড়ি থামিয়ে ‘চাঁদা’ আদায় করা থেকে শুরু করে, ট্রাক চালকদের হুমকি দেওয়া এবং অবৈধ বালি ও পাথরের খাদান থেকে সিন্ডিকেটের টোল আদায় করা—এমন কোনো অন্যায় কাজ ছিল না যেখানে এদের নাম জড়ায়নি। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে খনি মাফিয়াদের সাথে এদের যোগসাজশ ছিল ওপেন সিক্রেট। রাতের অন্ধকারে বা নির্জন রাস্তায় এদের দেখলেই সাধারণ মানুষ ও গাড়ি চালকদের বুকে আতঙ্ক তৈরি হতো।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন সরকার এই সিভিক বাহিনীকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচীতে ক্যাডারদের মতো ব্যবহার করত। তৎকালীন বিরোধীরা বারবার সরব হয়ে বলতেন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং বাংলায় আসলে এক ধরণের ‘প্যারা-পুলিশ’ বা সমান্তরাল বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল, যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বিরোধী কণ্ঠরোধ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করা। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পুষে রাখা এই বাহিনীর দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছিল।
কিন্তু বাংলায় আজ ডবল ইঞ্জিন সুশাসনের জমানা! চোর-তোলাবাজ আর কাটমানি খোরদের দিন যে শেষ, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই এই বাহিনীর রাশ শক্ত হাতে টেনে ধরেছে।

বিজেপি সরকারের অধীনে সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের নতুন দায়িত্ব:

আবর্জনা মুক্ত বাংলা: এখন তাঁদের মূলত পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের কাজে লাগানো হচ্ছে।

রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্নতা: ভিআইপিদের নিরাপত্তা বা দাদাগিরি নয়, সিভিকদের মূল কাজ এখন রাস্তা পরিষ্কার রাখা।

স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা: গ্রামীণ ও শহর এলাকায় জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রধান হাতিয়ার করা হচ্ছে তাঁদের।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অন্যায় দাদাগিরি বন্ধ করে যেভাবে এদের আসল সামাজিক কাজে নিয়োগ করা হয়েছে, তা এককথায় অনবদ্য মাস্টারস্ট্রোক।

তোলাবাজি আর সিন্ডিকেটের চেনা সাম্রাজ্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে বাংলায় আজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের পকেট কাটা বা নিরীহ মানুষকে ভয় দেখানোর অধিকার আজ কারও নেই। অপরাধীদের ডানা ছেঁটে এভাবেই বাংলাকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে নতুন সরকার।
তৃণমূল জমানার কাটমানি-তোলাবাজি বন্ধ করে সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের ময়লা পরিষ্কারের মতো জরুরি নাগরিক পরিষেবায় লাগানোর এই ঐতিহাসিক শুভেন্দু মডেলকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *