শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ নাগরিকদের শান্তিতে বাঁচার অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবার রাজ্য জুড়ে এক অভূতপূর্ব ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বহু পুরনো শব্দবিধি ও নির্দেশিকা মেনে এবার রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার কাজ শুরু করেছে খোদ মসজিদ কর্তৃপক্ষ। পূর্বতন জমানায় রাজ্যজুড়ে এই শব্দবিধি কার্যকর করা নিয়ে একাধিক বিতর্ক ও অভিযোগ থাকলেও, নব্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সুপ্রিম নির্দেশিকাকে কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উঁচু স্বরে মাইক বাজানোর ফলে এলাকার বাসিন্দা, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক ও পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতেই এই নির্দেশিকা জোরকদমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুপ্রিম নির্দেশ মেনে দেশের প্রতিটি নাগরিকের শান্তিতে বাঁচার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারের কড়াকড়ির পর, রাজ্যের বহু প্রান্তেই মসজিদ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাইক এবং লাউডস্পিকার খুলে ফেলছেন। যে সমস্ত স্থানে এখনও নির্দেশিকা পুরোপুরি পালিত হয়নি, সেখানেও প্রশাসন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে দ্রুত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে— মন্দির কিংবা মসজিদ, ধর্মীয় স্থান যাই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে কোথাও উচ্চশব্দে মাইক বাজানোর অধিকার কারও নেই। এলাকাভিত্তিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতেই আদালতের এই নির্দেশিকা অতীতে জারি করা হয়েছিল, যা এখন কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে। শব্দদূষণের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে নব্য সরকারের এই বৈষম্যহীন ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ সত্যি এক নতুন ও সুশাসিত বাংলার নজির স্থাপন করল।