ভোটগ্রহণের আগেই কার্যত বিরোধীশূন্য রাজস্থানের পুর ময়দান! ব্যালট বাক্সে ভোট পড়ার আগেই গেরুয়া সুনামি আছড়ে পড়ল মরুরাজ্যে। পুরসভা নির্বাচনের আসল লড়াই শুরুর আগেই ৭৭টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় তুলে নিয়েছেন, যার সিংহভাগই দখল করে বিরোধী শিবিরকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ৭৭টি আসনের মধ্যে একাই ৪৪টিতে বিনা লড়াইয়ে জয়ী হয়ে নিজেদের অবিসংবাদিত জনভিত্তি প্রমাণ করেছে পদ্মশিবির। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ১৭টি আসনে এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস কোনোমতে তৃতীয় স্থানে ঠাঁই পেয়ে জিতেছে মাত্র ১৬টি আসন। আঞ্চলিক কোনো দলের সেখানে খাতা খোলারও ক্ষমতা হয়নি।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে প্রার্থীদের এই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের তালিকায় একাই ৫৬.৪ শতাংশ আসন নিজের পকেটে পুরেছে বিজেপি, যেখানে কংগ্রেস আটকে গেছে মাত্র ২০.৫ শতাংশে। বিশেষ করে ডিগ জেলায় রেকর্ড গড়ে ১০টি ওয়ার্ডে প্রার্থীরা বিনা লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া চিত্তোরগড়ের ৬টি ওয়ার্ড, সিকারের ৫টি এবং আলোয়ার, ঝুনঝুনু, যোধপুর ও খেরথাল-তিজারার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ৪টি করে ওয়ার্ডে ভোটের আগেই জয়জয়কার বিজেপির। একমাত্র রাজধানী জয়পুর পুরনিগমের ১৫০টি ওয়ার্ড ছাড়া রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মোদী ও ভজনলাল সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের প্রভাব।
এই মেগা জয়ের পর কংগ্রেসের অতীত অপশাসনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপি শীর্ষ নেতা রাজেন্দ্র রাঠোর। তিনি সাফ জানান— মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মাত্র ৪০ দিনের নির্বাচনী আচরণবিধির মধ্যে গোটা রাজ্যের পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোট সম্পন্ন করার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। অথচ এর আগের কংগ্রেস জমানায় ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে টানা ১৩ দফায় ভোট করিয়ে ১৮ মাসের মধ্যে প্রায় ২৮০ দিন কেবল নির্বাচনী আচরণবিধির খাঁড়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। যার ফলে মাসের পর মাস বন্ধ থেকেছে জনকল্যাণমূলক কাজ এবং স্তব্ধ হয়েছিল গোটা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন।
বর্তমান বিজেপি সরকার ১৯ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই ৩০৯টি পুর সংস্থার ভোট পরিচালনা করছে এবং নভেম্বরের মধ্যেই পঞ্চায়েত ভোটও শেষ হতে চলেছে। নির্বাচনের কারণে সরকারি কাজে যাতে কোনো দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি না হয়, সেই বিষয়ে প্রশাসনের এমন দক্ষ ব্যবস্থাপনা জনমানসে বিপুল সাড়া ফেলেছে। যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলল ভোটগ্রহণের আগেই ৪৪টি ওয়ার্ডে গেরুয়া ঝড়ের এই অভূতপূর্ব বিজয়ে।