বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খাওয়ার পর— সেই পরাজয় থেকে দ্রুত শিক্ষা নিয়ে বাংলা রাজনীতির ময়দানে নতুন স্ট্র্যাটেজি সাজাতে শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। সামনেই মুর্শিদাবাদ জেলার হাই-প্রোফাইল রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন, আর এই উপনির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া আসনটি ছিনিয়ে নিতে জোরকদমে ময়দানে নেমে পড়েছে পদ্ম শিবির। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির অসামান্য সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, রেজিনগরেও জয়ের ধ্বজা ওড়াবে দল। আর মুখ্যমন্ত্রীর সেই সুর ধরেই জেলা ও রাজ্য স্তরে নির্বাচনী লড়াইয়ের ঘুঁটি সাজানো শুরু হয়ে গিয়েছে।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর বিধানসভাকে বিজেপি এবার বিশেষভাবে পাখির চোখ করেছে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই আসনে জয়লাভ করতে পারলে দেশজুড়ে এই বার্তা স্পষ্ট করে দেওয়া সম্ভব হবে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনও এখন নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নমুখী নীতিকে সমর্থন করছেন। আর তাই রেজিনগরের চারটি মণ্ডলের সাংগঠনিক কাজ তদারকি করতে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার চারজন সাধারণ সম্পাদক, চারজন বিধায়ক এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই সদস্য— গৌরীশঙ্কর ঘোষ ও গার্গী দাস ঘোষকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো নির্বাচনী কাজ পরিচালনার ভার দেওয়া হয়েছে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি প্রবাল রাহার কাঁধে।
সাংগঠনিক স্তরে ইতিমধ্যেই প্রতিটি ব্লক, মণ্ডল ও বুথ ইনচার্জদের দ্রুত বৈঠক ডেকে এলাকার মানুষের স্থানীয় সমস্যা ও চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কিত পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের এই সমীক্ষা ও সাংগঠনিক পর্যালোচনা শেষ হলেই দলের নেতা-কর্মীরা সরাসরি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবিড় জনসংযোগ শুরু করবেন। যদিও গতবারের প্রার্থী বাপন ঘোষকেই ফের দাঁড় করানো হবে নাকি নতুন কোনো মুখকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্ব। তো বিহারের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে, রেজিনগরের উপনির্বাচনে ইতিহাস তৈরি করতে বিজেপির এই অল-আউট ঝাঁপানোর প্রস্তুতি সত্যিই এক চরম রোমাঞ্চকর রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।