বছরের শেষে এক অভূতপূর্ব, নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর আধ্যাত্মিক বিপ্লবের সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা কলকাতা! সনাতন সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও শাশ্বত সনাতনী চেতনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এবার এক অবিস্মরণীয় মেগা কর্মসূচির ব্লু-প্রিন্ট ঘোষণা করলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! রবিবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক সুবিশাল ও ভাবগম্ভীর আধ্যাত্মিক সমাবেশে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন— আগামী ২৯শে ডিসেম্বর ২০২৬ কলকাতার পুণ্যভূমিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘১০ লক্ষ কণ্ঠে সমবেত গীতাপাঠ’! শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দিব্য বাণীতে গোটা শহরকে মুখরিত করতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যজোড়া মহাপ্রস্তুতি। আর এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় মহাসমাগমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন আরএসএস প্রধান পরমপূজনীয় মোহন ভাগবত স্বয়ং!
নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ১১ হাজার সনাতনীদের সুমধুর কণ্ঠে গীতাপাঠের পবিত্র মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সনাতন সমাজের উদ্দেশে যে বলিষ্ঠ ও প্রত্যয়ী বার্তা দিয়েছেন, তা এক লহমায় অতীতের সমস্ত ভয় আর আতঙ্কের অবসান ঘটিয়ে দিয়েছে। পূর্বতন সরকারের তোষণের রাজনীতির অন্ধকার জমানাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভয় দিয়ে বলেন— “মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলে গেছে! এখন নির্ভয়ে বুক ফুলিয়ে গীতাপাঠ করুন, মনে কোনো ভয়ের স্থান নেই।” তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন— এই সরকার সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সুরক্ষাকারী সরকার। বাংলায় এখন কোনো নাগরিককে নিজের ধর্ম পালন করতে গিয়ে কুন্ঠিত হতে হবে না; প্রত্যেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আধ্যাত্মিক চেতনা প্রচার ও প্রসার করতে পারবেন।
সম্প্রতি কিছু উগ্র মানসিকতার মানুষের দ্বারা পূজনীয় বাগেশ্বর বাবা অর্থাৎ ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানো এবং হিন্দু সাধু-সন্তদের প্রকাশ্যে অপমান করার ঘৃণ্য অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক খাঁড়া নামিয়ে আনার বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। অত্যন্ত কঠোর মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন— “স্বাধীন ভারতের বুকে সাধু-সন্তরা সনাতন ধর্মের জয়গান গাইবেনই। যারা ভেবেছিল অতীতে যা হয়েছে এখনো তা-ই চলবে, তাদের জেনে রাখা উচিত— বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানো দুষ্কৃতীদের ইতিমধ্যেই পুলিশ খুঁজে বের করে শ্রীঘরে ঢুকিয়েছে। এই নতুন বাংলায় কোনো সাধু-সন্ত বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার চেষ্টা হলে প্রশাসন এক চুলও রেয়াত করবে না; অপরাধীদের সোজা জেলে যেতে হবে!”
শুধু ২৯শে ডিসেম্বরের ১০ লক্ষ মানুষের মেগা গীতাপাঠই নয়, ২০২৭ সালের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে আধ্যাত্মিকতার যে জোয়ার বইতে চলেছে, তারও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান— আগামী জানুয়ারি মাসে মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে গঙ্গাসাগরের তপোভূমিতে আসছেন প্রখ্যাত রামায়ণী তথা জগৎগুরু স্বামী রামভদ্রাচার্য মহারাজ। শুধু তাই নয়, জানুয়ারি মাসেই কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে কেন্দ্র করে এক সুবিশাল ও ঐতিহাসিক হিন্দু ধর্মসভার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
একদা যে কলকাতায় সনাতনী উৎসব করতে গেলে আদালতের অনুমতি নিতে হতো, যে বাংলায় গীতাপাঠের আয়োজনে প্রশাসনিক বাধার পাহাড় তৈরি করা হতো— সেই তিলোত্তমার বুকেই আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হতে চলেছে শ্রীকৃষ্ণের অমর বাণী। ২৯শে ডিসেম্বরের এই মহামিলন শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং বাংলার মাটিতে সনাতনী সংস্কৃতির চিরন্তন পুনরুত্থানের এক অবিসংবাদিত বিজয়গাথা!