বদলে যাচ্ছে বাংলার পাঠ্য বইয়ের সিলেবাস! একদিকে মুঘল ইতিহাসে কমছে গুরুত্ব, অন্যদিকে প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের শুরুতেই জায়গা পেতে চলেছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়!আর কী কী বদল আসছে?

পশ্চিমবঙ্গের স্কুল পাঠ্যক্রমে বড়সড় পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সিলেবাস পুনর্গঠন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে ইতিহাস, স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদানকে পাঠ্যবইয়ে বিশেষভাবে তুলে ধরা এবং মুঘল ইতিহাস ও সাম্যবাদ নিয়ে আলোচনার পরিমাণ কমানো।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শ্রেণির প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের শুরুতেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান তুলে ধরা হবে। কমিটির বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের তাঁর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কমিটির মতে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবদান পাঠ্যক্রমে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরতেই বইয়ের শুরুতে তাঁর জীবন ও অবদান রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনে মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রছাত্রীদের যতটুকু জানা প্রয়োজন, ততটুকুই রাখা হবে। কমিটির যুক্তি ভারতের ইতিহাস শুধুমাত্র মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস নয়। ভারতীয় ইতিহাসের অন্যান্য সময়কাল, শাসক, আন্দোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া দরকার। একই ধরনের পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে সাম্যবাদ নিয়েও। সাম্যবাদ সম্পর্কে বাস্তব ও তথ্যভিত্তিক বিষয় থাকবে, কিন্তু কোনো ধরনের প্রশংসা বা মহিমাকরণ থাকবে না এমনটাই কমিটির অবস্থান বলে জানানো হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে সিঙ্গুর এবং কন্যাশ্রী নিয়ে সিদ্ধান্ত। অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বই থেকে সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অধ্যায় বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই অধ্যায়টি ২০১৭ সালে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়েছিল। অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধির বই থেকে কন্যাশ্রী প্রকল্পের উল্লেখও সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কমিটির যুক্তি সরকারি প্রকল্পকে স্কুলের পাঠ্যক্রমের স্থায়ী অংশ করা উচিত নয়।

এই পরিবর্তনের পেছনে মূল যুক্তি হিসেবে সামনে আসছে ‘ভারসাম্য’ এবং ‘নিরপেক্ষতা’।কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিহাসের কোনও একটি নির্দিষ্ট সময়কাল বা রাজনৈতিক মতাদর্শকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে বিভিন্ন দিক ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরাই লক্ষ্য। সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলপাঠ্যে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *