পুজোর আর মাত্র এক মাস! ঢাকের কাঠি পড়তে এখনও কিছুটা সময় বাকি, কিন্তু তার আগেই আবহাওয়া দপ্তর শুনিয়ে দিল মন খারাপের খবর। এবার পুজোয় নাকি ভাসতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গ। ষষ্ঠীর আগেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে নিম্নচাপ! এবার ক্যালেন্ডারে পুজো একটু পিছিয়ে। ১০ অক্টোবর মহালয়া, আর ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহেই মূল পুজো। এই সময় সাধারণত বাংলায় বর্ষার বিদায়পর্ব চলে এবং শরতের পরিষ্কার আকাশের দেখা মেলে। কিন্তু এবারের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে কিছুটা অনিশ্চয়তা।
আবহাওয়া সংক্রান্ত যে পূর্বাভাসের কথা সামনে এসেছে, সেখানে বলা হচ্ছে—পুজোর সময়ের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগর একটি নিম্নচাপ সক্রিয় থাকতে পারে এবং গভীর নিম্নচাপের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়লে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত থেকে মাঝারি, কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুধু বৃষ্টি নয়, নিম্নচাপের অবস্থান এবং শক্তির উপর নির্ভর করে কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তার জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের লগ্নে।
আবহাওয়াবিদদের কথায়, অক্টোবরের আবহাওয়া এবছর ভাল থাকবে না। কারণ, সুপার এল নিনো তখনও সক্রিয় থাকবে। ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে এল নিনো। ফলে, তাঁদের যুক্তি হল– যতক্ষণ বঙ্গোপসাগরে জলের তাপমাত্রা না নামছে, ততক্ষণ সন্নিহিত অঞ্চলের আবহাওয়ায় ভারসাম্য ফিরবে না! আবহাওয়াবিদের বক্তব্য, অক্টোবরের যে সময় এবছর পুজো, সেই সময় শান্ত আবহাওয়া থাকার কথা হলেও তা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, বঙ্গোপসাগর তখন আরও বেশি সক্রিয় থাকবে। মাটি তখন ঠান্ডা হতে শুরু করবে, কিন্তু জল তখনও উত্তপ্ত থাকবে। তবে এই দুঃসংবদের মাঝেও রয়েছে খানিকটা আশার আলো।
পুজোর আগেই বঙ্গে বর্ষা বিদায় নেবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। নিম্নচাপ তৈরি হলেই যে কলকাতায় টানা ভারী বৃষ্টি হবেই, এমন নয়। নিম্নচাপ কোথায় তৈরি হচ্ছে, কোন দিকে যাচ্ছে, কতটা শক্তিশালী হচ্ছে এবং স্থলভাগে তার প্রভাব কতটা—এসবের উপরেই নির্ভর করবে পুজোর আসল আবহাওয়া। তবে এত আগে থেকে এখনই ফাইনাল রিপোর্ট বলা সম্ভব নয়। তাই নির্ভর করবে সেই সময়ের আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর। তাই নিম্নচাপ তৈরি হলে যেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা, তেমন আবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ঝকঝকে শরতের আকাশেরও দেখা মিলতে পারে।
