দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সিংহাসনে বসেই একটা পর একটা বিস্ফোরক দাবি করে চলেছেন শুভেন্দু। আর তাতে ঘুম উড়েছে বিরোধী শিবির তৃণমূলের। শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগেই শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন— ‘আর জি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব। সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।’
এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, ভোটের আগে থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করেছিলেন— ক্ষমতায় এলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপির অভিযোগ, কয়লা পাচার, বালি পাচার-সহ একাধিক দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার নজরেও রয়েছেন তিনি। আর তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তদন্ত এগোলে কি সত্যিই আইনি বিপাকে পড়তে পারেন অভিষেক?
নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, পুরনো একাধিক বিতর্কিত মামলার নথি ফের খতিয়ে দেখা হতে পারে। সেই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাগুলিও আরও সক্রিয় হতে পারে বলে জল্পনা বাড়ছে। যদিও তৃণমূলের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বিরোধীদের টার্গেট করছে বিজেপি। তবে শুভেন্দুর কড়া বার্তার পর এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে বাংলার রাজনৈতিক অন্দরে, আগামী দিনে কি আরও বড় কোনও রাজনৈতিক বিস্ফোরণ দেখতে চলেছে রাজ্য?
শুভেন্দু অধিকারীর এই জয়কে বিজেপি শিবির শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, ‘বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের সূচনা’ হিসেবেই তুলে ধরছে। নন্দীগ্রাম থেকে শুরু হওয়া শুভেন্দুর লড়াই যে শেষ পর্যন্ত বাংলার মসনদ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, তা হয়তো কয়েক বছর আগেও কল্পনা করেনি রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ। তবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে মমতা সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শুভেন্দু। আর এবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তাঁর প্রথম বার্তাই স্পষ্ট— প্রশাসনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে নতুন সরকার। বিজেপি কর্মীদের দাবি, শুভেন্দুর নেতৃত্বেই বাংলায় ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু হতে চলেছে, যেখানে পুরনো সব অভিযোগ ও বিতর্কের হিসাব চাওয়া হবে একে একে।