কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে মঙ্গলবার সন্ধ্যার ঘটনা ঘিরে তৈরি হওয়া চাঞ্চল্যের মধ্যেই বড় মন্তব্য করল কলকাতা পুলিশ। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। একইসঙ্গে অভিযুক্ত তরুণীর বাবা মমতার পূর্ব পরিচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে জল্পনা।
মঙ্গলবার তৃতীয়ার সন্ধ্যায় কালীঘাট মিলন সংঘের পুজোর উদ্বোধনে যাওয়ার কথা ছিল মমতার। সেই মতো বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় মমতার বাড়ির সামনে এক তরুণী উপস্থিত হন। নিজেকে মমতার ভাইঝি বলে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি বলে জানা যায়।
পুলিশের তরফে ওই তরুণীর নাম অনুসূয়া সাহা বলে জানানো হয়েছে। তিনি নিউ আলিপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। অভিযোগ, মমতা বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় অনুসূয়া তাঁকে ‘পিসি’ বলে ডাকেন এবং তাঁর দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকী মমতার শাড়ি ধরে টান দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা দ্রুত ওই তরুণীকে ধরে ফেলেন। তাঁকে মাটিতে ফেলে আটক করা হয়। ওই তরুণীর কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তৃণমূল নেত্রী দোলা সেনও অভিযোগ জানান। এরপর অনুসূয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ওই তরুণী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। তবে ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আর সেই তদন্তের মধ্যেই কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার বক্তব্য সামনে আসে।
কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতার উপর হামলার অভিযোগ সত্যি নয়। পুলিশের কাছে হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কোনও তথ্য নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই তরুণী মমতার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
অভিযুক্ত অনুসূয়া সিভিক ভলান্টিয়ার কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। তিনি জানিয়েছেন, অনুসূয়া সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ২০১১ সালে পশ্চিম বন্দর থানা থেকে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। তবে গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি ডিউটিতে আসছেন না। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও পুলিশের নজরে এসেছে।
এর পাশাপাশি অভিযুক্তের পারিবারিক পরিচয় নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। তাঁর দাবি, অনুসূয়ার বাবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ব পরিচিত। ফলে অভিযুক্ত তরুণী কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে মমতার বাড়ির সামনে এসেছিলেন, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, মমতার নিরাপত্তা ঘিরেও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে কীভাবে ওই তরুণী পৌঁছে গেলেন, তাঁর কাছে সত্যিই কোনও অস্ত্র ছিল কি না, থাকলে সেটি কীভাবে সেখানে এল—এই সমস্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যের পর সেই ঘটনার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন তদন্তে অভিযুক্ত তরুণীর উদ্দেশ্য, তাঁর গতিবিধি এবং পুরো ঘটনার পিছনে ঠিক কী ছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজা হচ্ছে।