বাংলায় পরিবর্তনের নতুন সূর্যোদয়। নবান্নের সিংহাসনে এখন জননেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পাহারায় এবার ‘জোড়া বাহিনী’। একদিকে কেন্দ্রের এলিট সিআরপিএফ (CRPF), আর অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল। কিন্তু কেন এই নজিরবিহীন সতর্কতা ?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে গত ৬ মে-র সেই অভিশপ্ত রাতে। শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে যেভাবে রাস্তার ওপর পেশাদার খুনি দিয়ে হত্যা করা হলো, তাতে নবান্নের কর্তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। বাংলার মাটিকে যারা রক্তাক্ত করতে চায়, তাদের নিশানায় যে এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী— তা বুঝতে বাকি নেই কারোর ।
গত ১৫ বছরের অপশাসন আর সিন্ডিকেট রাজ বাংলাকে যে পঙ্কিল অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল, তার ছাপ আজও স্পষ্ট। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর ওপর একাধিকবার হামলার চেষ্টা হয়েছে। কখনও কাঁথিতে, কখনও মেদিনীপুরের রাস্তায়। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পুলিশি নিরাপত্তার ‘টোপ’ দিলেও, শুভেন্দু তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ, তৎকালীন পুলিশের প্রতি মানুষের ভরসা ছিল তলানিতে।
কিন্তু আজ সময় বদলেছে। বিজেপি শাসিত বাংলায় মানুষের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে বদ্ধপরিকর সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে শুভেন্দুর Z ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় সুরক্ষা তো থাকছেই, তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ ‘স্পেশাল উইং’। এই ডাবল প্রোটেকশনই নিশ্চিত করবে— খুনিরা চাইলেও যেন মুখ্যমন্ত্রীর ধারেকাছে ঘেঁষতে না পারে। তবে এখানেও আছে এক টুইস্ট। শুভেন্দু অধিকারী ব্যক্তিজীবনে আড়ম্বরহীন। অতিরিক্ত নিরাপত্তার ঘটা তিনি নিজেই পছন্দ করেন না। তাই নবান্নের ব্লু-প্রিন্ট এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের সাথে মেলামেশায় বা তাঁর দৈনন্দিন কাজে কোনো বাধা না আসে।
একদিকে জনসেবা, অন্যদিকে কড়া পাহারা। দুষ্কৃতীদের কোনো ছাড় নয়। ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে এবং চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে— কড়া পাহারায় মুড়ে ফেলা হলো বাংলার নতুন সেনাপতিকে