কালিয়াচকে তৃণমূলের জয়, আর সেই জয়ের পরেই উড়ল সবুজ আবির। নতুন প্রধান গঠনকে কেন্দ্র করে সবুজ আবিরে রীতিমতো উৎসবের চেহারা নিল কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। ব্যান্ড বাজিয়ে আনন্দে মেতে উঠলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। পঞ্চায়েতে প্রধান গঠন ঘিরে এমনই রাজনৈতিক আবহ তৈরি হল কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লকে।
ঘটনার কেন্দ্র কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন রয়েছে ২৭টি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বিভিন্ন দলের সদস্যদের সমর্থনে নির্দলের এক সদস্য প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়। সম্প্রতি অনাস্থা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই অপেক্ষা ছিল নতুন প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বুধবার কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন প্রধান গঠনের জন্য তলবি সভার আয়োজন করা হয়। সভাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক আগ্রহ। কারণ নতুন প্রধান নির্বাচনের মাধ্যমে পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে ফের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ছিল।
তলবি সভায় মোট ২৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আর সেখানেই তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে তৃণমূলের ছিলেন ১০ জন। কংগ্রেসের ছিলেন ৬ জন। পাশাপাশি ছিলেন ২ জন নির্দল সদস্য। অর্থাৎ এই তিন পক্ষের মোট ১৮ জন সদস্য একসঙ্গে নতুন প্রধান গঠনের পক্ষে অবস্থান নেন।
এই সমর্থনের ভিত্তিতেই কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচিত হন তৃণমূলের ফেরাউন হোসেন, যিনি সেলিম নামেও পরিচিত। নতুন প্রধানের নাম সামনে আসার পরেই বদলে যায় পঞ্চায়েত চত্বরের পরিবেশ।
নতুন প্রধান গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৃণমূল নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। সবুজ আবিরে রাঙিয়ে ওঠে পরিবেশ। তার সঙ্গে বাজতে থাকে ব্যান্ড। জয় উদযাপনে রীতিমতো উৎসবের মেজাজ তৈরি হয় এলাকায়।
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ২৭ আসনের এই পঞ্চায়েতে আগে নির্দল প্রধান দায়িত্বে ছিলেন। পরে অনাস্থার মাধ্যমে তাঁর অপসারণ এবং নতুন প্রধান গঠনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে পরিবর্তন এল। আর নতুন প্রধান হিসেবে তৃণমূলের ফেরাউন হোসেনের দায়িত্ব নেওয়ায় পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে—তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেস এবং নির্দল সদস্যদের সমর্থনের সমীকরণ। তলবি সভায় উপস্থিত ২৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৮ জনের সমর্থনে নতুন প্রধান নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিই এখন স্থানীয় রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত বিষয়।
নতুন প্রধান দায়িত্ব নেওয়ার পর পঞ্চায়েতের কাজকর্ম কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার। তবে বুধবারের তলবি সভার পর কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে আপাতত তৃণমূল শিবিরেই উৎসবের আবহ। নতুন প্রধানের নাম ঘোষণা হতেই সবুজ আবির এবং ব্যান্ডের তালে সেই উচ্ছ্বাসই প্রকাশ্যে ধরা পড়ল।