বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট! আর সেই আবহেই একের পর এক দল বদলের ঘটনা ঘটছে গোটা রাজ্য জুড়ে। আর এবার আবারও তৃণমূলের ঘর ভাঙলো ধূপগুড়িতে। রবিবার রাতে উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি পশ্চিম মণ্ডলের মাগুরমারি ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ১৫টি পরিবার ঘাস-ফুল শিবির ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। আর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং বিজেপির ধূপগুড়ি মণ্ডলের সভাপতি পলাশ বসাক। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক চন্দন দত্ত, বিজেপি নেতা মাধব রায়, পলাশ বসাক-সহ আরও অন্যান্যরা।
এদিনের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে বিজেপির ধূপগুড়ি-র সভাপতি জানান, দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে ওই সকল পরিবারের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তার দাবি, এ ধরনের যোগদান তাদের স্থানীয় কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তা আগামী দিনে দারুণ ফলপ্রসূ হবে। এরপরই দলবদলুদের একজন বলেন, ধুপগুড়িতে তৃণমূলের কাজকর্ম তার ভাল লাগে না। যদিও তার বাবাও তৃণমূল কর্মী, কিন্তু তার কাছে শাসক দলের কোনো কিছুই ভাল না বলে দাবি ওই ব্যক্তির। যদিও এই দলবদল নতুন না, এর আগে মালদহতে দল ত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এখনও আরও অনেক জায়গাতেই শাসক দল ছেড়ে বিজেপিতে মানুষ নাম লেখাতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে তাদের দাবি, এই দলবদল আসন্ন নির্বাচনে বেশ গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
বলা ভালো, বিজেপি-র ঘাঁটি সর্বদাই শক্ত উত্তরবঙ্গে। যদিও লোকসভা নির্বাচনে কিছুটা ভালো ফল করেছিল তৃণমূল। তবে, দক্ষিণবঙ্গে যেভাবে শাসকদলের আধিপত্য রয়েছে, সেভাবে উত্তরবঙ্গে এখনও দাগ কাটতে পারেনি তৃণমূল। আর এই আবহের মধ্যেই এভাবে ৫০ জনের দলবদল নিতান্তই বিজেপির শক্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদিও অনেকের দাবি, SIR থেকেই বাঁচতে এমনটা করছেন এই কর্মীরা। তাহলে কি, গেরুয়া শিবিরের ছত্রছায়ায় গেলেই বাঁচা সম্ভব নির্বাচন কমিশনের এই সমীক্ষা থেকে? প্রশ্ন তুলছে রাজ্যের শাসক দল।