যে দেশের মাটিতে জন্ম, সেই দেশের জাতীয় সঙ্গীত আর দেশাত্মবোধক গান গাইতে আবার কিসের দ্বিধা? দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বাংলায় যে তোষণ আর মেরুকরণের নোংরা রাজনীতি চালিয়েছিল পিসি-ভাইপোর তৃণমূল সরকার, এক ঝটকায় তা উপড়ে ফেলে দিল নতুন বিজেপি সরকার। এবার বাংলার প্রতিটি মাদ্রাসায় প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। নবান্নের এই ঐতিহাসিক এবং সাহসী সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য।
মনে করে দেখুন বিগত দিনগুলোর কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে শিক্ষাঙ্গনগুলোতেও তোষণের রাজনীতি ঢুকিয়ে দিয়েছিল। জাতীয়তাবাদের প্রচার করলে পাছে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোট হাতছাড়া হয়ে যায়—এই ভয়ে বন্দে মাতরমের মতো পবিত্র গানকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন—বাংলায় এখন শুধু আইনের শাসন আর জাতীয়তাবাদের জয়গান চলবে। কোনো ধরণের ধর্মীয় মেরুকরণ আর বরদাস্ত করা হবে না। সূত্রের খবর, গত ১৯শে মে ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষার ডিরেক্টরেট থেকে একটি অত্যন্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পূর্বের সমস্ত নিয়ম বাতিল করে এবার থেকে ক্লাস শুরুর আগের অ্যাসেম্বলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে। এই নির্দেশিকার আওতায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি মডেল মাদ্রাসা, সরকার অনুমোদিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা, এমএসকে, এসএসকে এবং সমস্ত স্বীকৃত বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে যে কড়া দাওয়াই দেওয়া হবে, তা ভালো করেই জানেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে দু-হাত তুলে স্বাগত জানিয়েছেন খোদ মুসলিম সমাজের প্রগতিশীল অংশ। ওয়েস্ট বেঙ্গল মাদ্রাসা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির সভাপতি ফিরোজউদ্দিন সাকি অত্যন্ত দেশপ্রেমিক এক বয়ান দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন— “যে দেশে বাস করি, সেখানকার কানুন মেনে চলাই আমাদের কাছে ধর্মীয় নির্দেশ। সরকারের এই নির্দেশে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। যারা প্রগতিশীল ও শিক্ষিত মুসলিম, তাঁদের এতে কোনো সমস্যা হতে পারে না।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অধীনে থাকা প্রায় ১১০০টি মাদ্রাসা আগামী ১লা জুন গরমের ছুটির পর খুললেই প্রথম দিন থেকে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে। আগে যেখানে শুধু ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’ গাওয়া হতো, এবার থেকে তার পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গানও সমস্বরে গাইবে পড়ুয়ারা। অর্থাৎ, তৃণমূল যে বিভেদের রাজনীতি করতে চেয়েছিল, শুভেন্দু সরকারের সুশাসনের সামনে তা আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিজেপি সরকার প্রমাণ করে দিল, তাদের কাছে দেশের সম্মান আর জাতীয় ঐক্যই শেষ কথা। ভোটব্যাঙ্কের জন্য যারা এতদিন দেশপ্রেমকে জলাঞ্জলি দিয়েছিল, সেই পিসি-ভাইপোর সিন্ডিকেট আজ পুরোপুরি ব্যাকফুটে। মাদ্রাসার পড়ুয়াদের গলায় ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি আসলে এক নতুন, উন্নত এবং তোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর।
আপনার কী মনে হয়? রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত কি আসলেও জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে? কমেন্ট আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না!
