“জেরা করার দরকার কী? যেদিন খুশি যে মামলায় ইচ্ছা ওকে তোলা যায়!” উপনির্বাচনের আগেই হুমায়ুনকে নিয়ে সজল ঘোষের বিরাট মন্তব্য!

নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর— রাজ্যের জোড়া উপনির্বাচনকে ঘিরে মুর্শিদাবাদ থেকে মেদিনীপুর যখন রাজনীতির পারদ ফুটছে, ঠিক তখনই এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটালেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ! সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার মুখে পড়েছিলেন রেজিনগরের প্রাক্তন ও নওদার বর্তমান বিধায়ক তথা ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর। থানা থেকে বেরিয়ে এসে যথারীতি সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার সেই ভণ্ডামির মুখোশ টেনে ছিঁড়ে চাঁচাছোলা ভাষায় তোপ দাগলেন সজল ঘোষ। সাফ জানিয়ে দিলেন— যে ব্যক্তি প্রকাশ্য ক্যামেরার সামনে বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ায়, তাকে জেরা করার কোনো প্রয়োজনই নেই; যেদিন ইচ্ছা যেকোনো পুরনো মামলায় তাকে সরাসরি শ্রীঘরে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত!

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে সজল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন— পুলিশের ভূমিকা ও হুমায়ুনের নাটকীয়তা নিয়ে। তিনি বলেন, “থানায় ওকে পুলিশ জেরা করছিল, নাকি ও উল্টে থানাকে জেরা করতে গিয়েছিল? অভিযুক্তকে যখন জেরা করা হয়, তখন তার কাজ প্রশ্নের সোজা উত্তর দেওয়া। সে ক্যামেরার সামনে এসে নিজের মনের ভাব আর রাজনৈতিক ক্ষোভ জাহির করবে কেন?”

এখানেই থেমে থাকেননি বরানগরের এই লড়াকু বিজেপি বিধায়ক। হুমায়ুনের অতীত ও বর্তমানের একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্যের খতিয়ান টেনে ধরে তিনি বলেন— “হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কেস দিতে বা তাকে হেফাজতে নিতে কোনো নতুন জেরার নাটক করার দরকার পড়ে না। যেদিন যে মামলায় ইচ্ছা তাকে টেনে তোলা যায়। ওর প্রকাশ্য মুখের ভাষাই তো তাকে জেলে ভরার জন্য যথেষ্ট! আর এই ধরনের চরম প্ররোচনামূলক কথা ও কোনো বন্ধ ঘরের আড়ালে বসে বলে না; ক্যামেরার আলো দেখলেই ওর মুখ থেকে একের পর এক বিষাক্ত হুমকি বেরিয়ে আসে। ওকে গ্রেফতার করার আগে এত জেরার দরকার কী? কেন বলেছিল, কখন বলেছিল— এই সমস্ত প্রশ্ন তো হাতকড়া পরিয়ে জেলে ঢোকানোর পরেও ঠান্ডা ঘরে জিজ্ঞাসা করা যায়!”

হুমায়ুন কবীরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত কি না— সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সজল ঘোষ সটান বলেন— “১০০ বার গ্রেফতার করা উচিত! যে নেতা প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে ৭০ শতাংশ বনাম ৩০ শতাংশের ভেদাভেদ তৈরি করতে পারে, যে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় দশটা লাশ ফেলে দেবে— তার বিরুদ্ধে তো কোনো সাধারণ ধারায় মামলা হতে পারে না! দশটা লাশ ফেলার হুমকি দিয়ে সে কি বড় কোনো রক্তক্ষয়ী ষড়যন্ত্রের ছক কষেছিল? এই সংখ্যাটা কি ১০ থেকে বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল? নাকি এর পেছনে সুদূরপ্রসারী কোনো দাঙ্গার নীলনকশা তৈরি হচ্ছিল? এই গভীর ষড়যন্ত্রের শিকড় খুঁজে বের করতে হলে ওকে ইমিডিয়েট গ্রেফতার করা দরকার!”

হুমায়ুনের সেই তথাকথিত বাবরি মসজিদ প্রকল্পকেও চরম কটাক্ষে বিঁধেছেন সজল ঘোষ। তিনি কাঠগড়ায় তুলে দাবি করেন— “ধর্মের নামে মুসলিম আবেগকে ব্যবহার করে বাবরি মসজিদের নামে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। আর এখন সেই ইটগুলোও নাকি বেঁচে বেঁচে খাওয়া হচ্ছে! প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে সে আবার মুসলিমদের নিয়ে রাস্তায় নামার হুঙ্কার দিচ্ছে। এটা কি সরাসরি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর উস্কানি নয়? খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সহৃদয় এবং আইনের শাসনে বিশ্বাসী বলেই এই ধরণের উস্কানিদাতারা এখনও মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ানোর সাহস পাচ্ছে!”

হুমায়ুনের ‘হয়রানি’ হওয়ার অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে ব্যঙ্গের সুরে সজল ঘোষ বলেন— “ও তো যেন একেবারে একালের সতীলক্ষ্মী! কালকেও মিডিয়ার সামনে বুক ফুলিয়ে বলল ‘দশটা লাশ ফেলে দেব বলেছি, বেশ করেছি!’ এই ঔদ্ধত্যের জবাব প্রশাসন দেবেই।” সব মিলিয়ে, উপনির্বাচনের রণক্ষেত্রে রেজিনগরের মাটিতে যখন পদ্মপ্রার্থী শাখারভ সরকারের উন্নয়ন বনাম বাবরি রাজনীতির জোর টক্কর চলছে, তখন হুমায়ুন কবীরকে আইনের খাঁচায় বন্দি করার সজল ঘোষের এই দাবি মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে এক নতুন আগুনে ঘি ঢেলে দিল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *