ই-২০ পেট্রোল উৎপাদনের জন্য ইথানল তৈরির আড়ালে ভর্তুকিযুক্ত চালের অপব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া র গুদাম থেকে ইথানল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পাঠানো চালের একটি বড় অংশ নির্ধারিত কারখানায় না পৌঁছে বেসরকারি রাইস মিলে চলে যায়। পরে সেই চাল পুনরায় সরকারি প্রকল্পের জন্য বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোটা ঘটনায় আনুমানিক প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৫ লক্ষ টন চালের লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই অনিয়মের অভিযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সরকারি ভর্তুকিতে দেওয়া চাল নির্দিষ্ট শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও তা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই চাল পুনরায় বাজারের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাতেই ফিরে আসে বলে অভিযোগ। ফলে একই চালকে একাধিকবার ব্যবহার করে বিপুল আর্থিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। পাশাপাশি এফসিআইয়ের এক এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর-সহ মোট পাঁচজন আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন নথিপত্র, পরিবহণের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতির সঙ্গে ইথানল উৎপাদনের যোগ থাকতে পারে। বর্তমানে দেশে ই-২০ পেট্রোলের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ইথানল উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই সুযোগেই কিছু অসাধু চক্র ভর্তুকিযুক্ত চালকে বেআইনিভাবে অন্যত্র সরিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় একটি ইথানল প্ল্যান্টে চাল পৌঁছানোর কথা থাকলেও, তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে চালের একটি অংশ বালাঘাটের একটি বেসরকারি রাইস মিলে চলে যায়।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শুধু মধ্যপ্রদেশেই নয়, দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যেও একই ধরনের অনিয়মের সূত্র মিলেছে। ফলে এই চক্র কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মতে, আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ এবং নেটওয়ার্কের বিস্তার বিচার করলে এটি বড় আকারের সংগঠিত দুর্নীতির ইঙ্গিত হতে পারে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। তবে এই অভিযোগগুলির বিচারাধীন তদন্ত এখনও চলমান এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
গোটা ঘটনায় ই-২০ পেট্রোল প্রকল্প, ইথানল উৎপাদন এবং সরকারি খাদ্যশস্য বণ্টন ব্যবস্থাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের। বিশেষ তদন্তকারী দলের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই এই বহুল আলোচিত চাল কেলেঙ্কারির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
