সংসারে স্ত্রী, দুই পুত্রসন্তান। পেশায় ক্ষেতমজুর। অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা ভি নাগেশ্বরের জীবন ছিল আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই। কিন্তু একসময় আধ্যাত্মিক টানেই ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি।লক্ষ্য একটাই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন। নাগেশ্বরের দাবি, ঈশ্বরের কৃপা ও নির্দেশেই তাঁর এই যাত্রা শুরু। আর সেই বিশ্বাসকে সঙ্গী করেই দিনের পর দিন এগিয়ে চলেছেন তিনি। এই যাত্রায় নেই কোনও বিলাসিতা, নেই আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা। রয়েছে শুধুই পথ চলার জেদ, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি এবং গন্তব্যে পৌঁছনোর সংকল্প। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেই তিনি এই তীর্থযাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।
নাগেশ্বরের এই দীর্ঘ যাত্রার শুরু অন্ধ্রপ্রদেশের মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের মধ্য দিয়ে।
এরপর পায়ে হেঁটেই একের পর এক তীর্থস্থানে পৌঁছন তিনি। মল্লিকার্জুন, ভীমাশঙ্কর এবং ত্র্যম্বকেশ্বর প্রথম তিনটি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করেন হেঁটেই। গুজরাতে পৌঁছনোর পর এক সহৃদয় ব্যক্তি তাঁকে উপহার দেন একটি সাইকেল। সেই সাইকেলই এখন তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। আগে দিনে প্রায় ৪০ কিলোমিটার হাঁটতেন নাগেশ্বর। আর বর্তমানে সাইকেলে প্রতিদিন প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। বয়স যে তাঁর কাছে কেবলই একটা সংখ্যা, এই দীর্ঘ যাত্রা যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়!
ছ’মাসের এই দীর্ঘ যাত্রায় ইতিমধ্যেই ন’টি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন সম্পন্ন করেছেন নাগেশ্বর। তাঁর দর্শন করা মন্দিরগুলির মধ্যে রয়েছে সোমনাথ, নাগেশ্বর, উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর, ওমকারেশ্বর, কাশী বিশ্বনাথ এবং বৈদ্যনাথ-সহ একাধিক পবিত্র তীর্থস্থান। বর্তমানে হাওড়া-সহ ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রামেশ্বরমের উদ্দেশে এগিয়ে চলেছেন তিনি। এরপর ঘৃষ্ণেশ্বর এবং কেদারনাথ দর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এই তিনটি তীর্থস্থান দর্শন সম্পন্ন হলেই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ পরিক্রমার লক্ষ্য পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন নাগেশ্বর।
ভোর পাঁচটা থেকে ছ’টার মধ্যে শুরু হয় তাঁর যাত্রা। সাইকেল চালিয়ে কখনও জাতীয় সড়ক ধরে, কখনও বিভিন্ন জনপদ পেরিয়ে এগিয়ে চলেন তিনি। বিকেল কিংবা সন্ধ্যা পাঁচটা নাগাদ থামেন দিনের যাত্রা। রাতে আশ্রয় নেন কোনও গ্রামের স্থানীয় মন্দিরে। খাবার বলতে মূলত ভাত আর রুটি। আর্থিক সংস্থান বলতে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্য। দিনভর যে সাহায্য মেলে, তা দিয়েই কোনওরকমে খাবার এবং রাত কাটানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। ন’টি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। এবার লক্ষ্য বাকি তিনটি। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে প্রতিদিন সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিয়ে এগিয়ে চলেছেন ষাটোর্ধ্ব এই পুণ্যার্থী।
