রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির দুই বিধায়ক শাখারভ সরকার এবং হাসিরানি রথের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের এই দুই বিধায়কের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, সেখানকার মানুষ অভিমান করে তাঁকে ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, যিনি তাঁর কাছে দু’বার পরাজিত হয়েছেন, তাঁর আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু এবার বয়সের প্রসঙ্গ তুলে মমতাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
শুভেন্দুর কথায়, “এই বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভালো ওঁর। ৭৫ প্রায় বয়স। এখন বিশ্রাম নেওয়ার কথা।” শুধু মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও একাধিক দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেবাংশু পাণ্ডা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, বিজেপিকে এতদিন সাম্প্রদায়িক দল বলে আক্রমণ করা হলেও রেজিনগরের নির্বাচনী ফল সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু ভোটাররাও বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার জয় পেয়েছেন।
মহিলাদের জন্য সরকারি সুবিধার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু দাবি করেন, ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার আগামী দিনে কীভাবে এগোবে, তার সম্পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। শুভেন্দুর কথায়, “ছ’মাসে যা দেখছেন, সেটা সকালবেলার চা-বিস্কুটের। এখনও ব্রেকফাস্ট হয়নি, বাকি আছি।” বিজেপি বিধায়ক হাসিরানি রথের ছেলেকে খুনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি গুরুতর অভিযোগ করেন। শুভেন্দুর দাবি, এই খুনের পিছনে কারা রয়েছে এবং খুনের জন্য কথিত দুই কোটি টাকার সুপারি কে দিয়েছিল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। এমনকী, এই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কালীঘাট কিংবা ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ এসেছিল কি না, সেই প্রশ্নও করেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ নিয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা নিয়ে এফআইআর দায়ের করা হলে মামলাটি সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
