উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকা নিয়ে ফের বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিধানসভা ভোটার তালিকা থেকে এক কোটিরও বেশি হিন্দু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বিজেপির রাজ্য কর্মসমিতির বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরে দলীয় কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যোগীর বক্তব্য, যোগ্য নাগরিকদের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বুথস্তরে আরও সক্রিয় হতে হবে বিজেপিকে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের বহু হিন্দু ভোটারের নাম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নেই। এই বিষয়ে কয়েকটি পরিসংখ্যানও সামনে এনেছেন তিনি। যোগীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬৬ লক্ষ মানুষের নাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোটার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁর।
অর্থাৎ, স্থানীয় নির্বাচনের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বিধানসভা নির্বাচনের তালিকায় তাঁদের নাম নেই—এমন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন যোগী। কেন এমন হচ্ছে, তা নিয়ে দলীয় স্তরে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রায় ৫৫ লক্ষ উপভোক্তার নাম বিধানসভা ভোটার তালিকায় নেই বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন এমন বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যোগী। তাঁর দাবি, ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় সাড়ে চার লক্ষ তরুণ-তরুণীর নামও বিধানসভা ভোটার তালিকায় নেই। প্রথমবার ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা এই তরুণদের নাম যাতে তালিকায় থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে যোগীর বার্তা, শুধু দলীয় বৈঠকে বসে আলোচনা করলে হবে না। এবার বুথে বুথে গিয়ে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখতে হবে। যাঁরা ভোট দেওয়ার যোগ্য, অথচ তালিকায় তাঁদের নাম নেই, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করতে হবে দলীয় কর্মীদের।
এই কাজে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের সঙ্গে সমন্বয় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় স্তরে যোগ্য ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য বিশেষ প্রচার চালানোর কথাও বলেছেন তিনি। শুধু একবার তালিকা পরীক্ষা নয়, কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যোগী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই দায়িত্ব শুধু বুথকর্মীদের নয়। বিজেপির সাংসদ, বিধায়ক এবং সংগঠনের পদাধিকারীদেরও সক্রিয়ভাবে এই কাজে যুক্ত হতে হবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র এবং বুথ এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা নিয়ে এই দাবি তাই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল। যোগীর নির্দেশের পর এখন বুথে বুথে বিজেপির তৎপরতা কতটা বাড়ে, সেটাই দেখার।
