শারদোৎসবের আনন্দমুখর আবহে রাজ্যবাসীর জন্য এবার এক বিরাট ও অবিশ্বাস্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক সংস্কার ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে নতুন সরকার। আর এবার মা দুর্গার বোধনের প্রাক্কালে, নিজের রাজনৈতিক উত্থানের পুণ্যভূমি নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য প্রতি মাসে এককালীন ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ঐতিহাসিক আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মঞ্চ থেকে ঘোষিত এই মেগা সামাজিক সুরক্ষার বার্তা সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোড়ন।
শনিবার নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চারণভূমি নন্দীগ্রামে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে উপস্থিত হয়েছিলেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। মণ্ডপ উদ্বোধনের পর উপস্থিত অগণিত মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান— যে সমস্ত পরিবার চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং যাঁদের প্রকৃত অর্থেই সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের পাশে মজবুত ঢাল হয়ে দাঁড়ানোই এই সরকারের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। বিভিন্ন প্রকল্পের রূপরেখা সাজিয়ে এই ধরনের দুর্বল পরিবারগুলির জন্য প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ চালু করার কথা ঘোষণা করেন তিনি। যদিও এই সুবিধার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বা কারা কারা এর আওতায় আসবেন এবং কবে থেকে এই অর্থ প্রদান কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা পরবর্তীতে নবান্ন থেকে প্রকাশ করা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
নন্দীগ্রামের সঙ্গে নিজের গভীর আবেগের সম্পর্কের কথা স্মরণ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান— নন্দীগ্রামের মাটি তাঁকে লড়াইয়ের সাহস জুগিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের প্রতিও নিজের দায়বদ্ধতার কথা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ভবানীপুরের মানুষ যতদিন তাঁকে চাইবেন, ততদিন তিনি তাঁদের জনপ্রতিনিধি হিসেবেই পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।
শুধু প্রান্তিক পরিবারের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তাই নয়, রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের প্রশ্নেও এদিন এক বড়সড় আশার আলো দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিয়োগ দুর্নীতির কালো অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে তিনি সাফ ঘোষণা করেন— মেধা এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি পরীক্ষার মাধ্যমে আগামী দিনে রাজ্যের ১ লক্ষ যোগ্য যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে নবান্ন। কোনো কাটমানি বা প্রভাবশালীদের সুপারিশ নয়, কেবল নিজের মেধার জোরেই বাংলার ঘরের ছেলে-মেয়েরা চাকরি পাবেন।
বক্তব্যের শেষ পর্বে ২০২১ এবং ২০২৬ সালের দুটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্মৃতিচারণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণ ও উত্তেজনার কারণে ওই দুই নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তিনি সেভাবে সরাসরি যেতে পারেননি। কিন্তু সুশাসন প্রতিষ্ঠার পর সেই ভেদাভেদ মুছে গিয়েছে; বর্তমানে তিনি নন্দীগ্রামের সেই সমস্ত এলাকায় গিয়ে নিয়মিত নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তুলছেন এবং এলাকার প্রতিটি মানুষের আস্থা অর্জন করছেন।
মাসে ১৫ হাজার টাকার মাসিক অনুদান এবং ১ লক্ষ মেধাভিত্তিক চাকরির এই দ্বিমুখী ঘোষণা একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বড় বার্তা দিল, তেমনই উৎসবের আবহে ডবল ইঞ্জিনের সরকারের উন্নয়নমূলক অভিমুখকেও স্পষ্ট করে দিল!