Will funds from the Annapurna Scheme be deposited into Lakhir Bhandar accounts? Not 1,500—this time, you will receive 3,000 per month.

লক্ষীর ভান্ডারের অ্যাকাউন্টে কি ঢুকবে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা! দেড় হাজার নয় এবার পাবেন তিন হাজার প্রতি মাসে

বাংলার মহিলাদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন। কারণ, ১৫ বছরের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে গতকাল ২০৭ আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।তাই এখন প্রশ্ন উঠছে, মে মাস থেকেই কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি বন্ধ হয়ে যাবে?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির ১৫টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে-জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়ের খতিয়ান তুলে ধরতে একটি বিশেষ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে বাংলায় বিজেপি শিবির সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলে দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা প্রকল্পে টাকা। যা মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলবে আরও দ্বিগুণ ভাবে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও চালু প্রকল্প নয়। বরং এটি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি দলের একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি নেতারা এই প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাংলার মহিলাদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক স্বনির্ভর করে তোলা হবে।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিল। যেখানে প্রথমে মহিলাদেরকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা এবং ১০০০ টাকা করে দেওয়া হতো।যার মধ্যে সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা পেতেন ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি মহিলারা পেতেন ১০০০ টাকা। পরে সেই ভাতা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা এবং ১২০০ টাকা করা হয়। আর এবার নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই ভাতা বেড়ে ১৫০০ টাকা এবং ১৭০০ টাকা হয়। বাংলার মহিলাদের কাছে এই লক্ষীর ভাণ্ডার ছিল আত্মনির্ভরতার আরেক নাম।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এ মাসে বন্ধ হবে কিনা তাও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আশা করে যাচ্ছে, প্রতিমাসের মতো এবারও লক্ষীর ভাণ্ডারের টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করা হবে।

বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে একের পর এক নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে দাবি করছে পদ্ম শিবির। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল, সেগুলো দ্রুত চালু করা হবে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, কৃষকদের সুবিধা, রাস্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পও তখন আরও সহজে বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি শিল্প বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরির কথাও বলা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগে মানুষের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতেই বিজেপি এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে সামনে আনছে। এখন দেখার, সরকার গঠন হলে বাস্তবে কত দ্রুত সেই পরিকল্পনাগুলি কার্যকর করা সম্ভব হয়। তাই মনে করা হচ্ছে সরকার গঠন হলেই অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে সমস্ত তথ্য জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *