The 12 AM Ultimatum! Will President's Rule be imposed in Bengal if the resignation is not submitted?

রাত ১২টার আল্টিমেটাম! ইস্তফা না দিলে বাংলায় কি জারি হবে রাষ্ট্রপতি শাসন?

বাংলায় বিজেপি জিততেই এক সাংবিধানিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ঘড়ির কাঁটা যত রাত ১২টার দিকে এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বুক ধড়ফড়ানি। কারণ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে আজ চূড়ান্ত সময়সীমা। যদি তিনি বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেন, তবে বাংলায় জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন। তাই গোটা দেশের নজর এখন কলকাতার রাজভবনের দিকে। সেই সঙ্গে বাংলার সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, বাংলার সাধারণ মানুষ কী পাবে পরিবর্তনের স্বাদ? যদিও স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট আগে কখনো দেখা যায়নি। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা আজ তলানিতে। ভোট-পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে দুর্নীতির পাহাড়, বাংলার মানুষ তিতি-বিরক্ত। তাছাড়া, চারিদিকে যখন সাধারণ কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে চলছে কেবল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার লড়াই।

বলে রাখা ভালো, আজ তথা ৭ই মে রাত ১২টা বাজলেই মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে রাজ্য বিধানসভার। যদিও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়িত্ব সামলাতে হয়। কিন্তু বাংলায় এক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে এক ভয়ানক সাংবিধানিক সংকট। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট লুটের অভিযোগ তুলে ইস্তফা না দেওয়ার দাবি করেছেন। তিনি যদি সত্যিই তা না করেন, তাহলে সাংবিধানিক সংকটের সম্মুখীন হতে হবে রাজ্যকে। ফলত, সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপাল আর.এন. রবির আজ কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন কিনা তা জানতে উদগ্রীব সকলেই। এদিকে সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজভবন থেকে ইতিমধ্যেই দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাথে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তার একগুঁয়েমি বজায় রাখেন এবং ইস্তফা না দেন, তবে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করা কেবল সময়ের অপেক্ষা।

এদিকে বাংলার জনতা আজ মনে করছে, কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই রাজ্যে শান্তি ফেরানো অসম্ভব। সাধারণ মানুষ চাইছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রাজ্য চলুক, যাতে তোলাবাজি আর সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটে। দুর্নীতিমুক্ত এক নতুন বাংলার স্বপ্ন আজ প্রত্যেকটি মানুষের চোখে। আর সেই স্বপ্নের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদায়ী সরকার। ফলে জোরালো হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি। বর্তমানে বাংলার মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় বসে কাঁদছে, অথচ যোগ্যতার বদলে মিলছে অযোগ্যদের চাকরি। উন্নয়নের নামে কেবল কাটমানি আর তুষ্টির রাজনীতি চলেছে এতদিন। বিজেপি বারবার দাবি করেছে, বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ সেই দাবিরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে জনমানসে। বাংলার মানুষ চাইছেন এমন এক প্রশাসন, যারা অপরাধীদের আড়াল করবে না, বরং শাস্তি দেবে।

যদিও ইতিমধ্যেই এ ঘটনা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কিশন কৌল জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দিলেও রাত বারোটা বাজলেই শেষ হয়ে যাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার জন্য বরাদ্দ মেয়াদ। তবে তারপর কি হবে, তা নির্ভর করছে স্বয়ং রাজ্যপালের ওপর। না, রাত ১২টা বাজতে আর বেশি দেরি নেই! এবার দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় স্বীকার করে সম্মানের সাথে সরে দাঁড়ান, নাকি জেদ ধরে বাংলাকে আরও এক বৃহত্তর সংকটের মুখে ঠেলে দেন। যদিও তিনি ইস্তফা না দিলেও, আজকের রাতই তৃণমূল সরকারের জন্য শেষ রাত হতে চলেছে। কারণ বাংলা আজ বদল চায়, শান্তি চায়। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নেতৃত্বে যে নতুন ভারতের জয়যাত্রা চলছে, বাংলাও আজ সেই উন্নয়নের অংশীদার হতে চাইছে। তাই দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত রাজভবন থেকে কী খবর আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *