Intimidated by Suvendu, powerful Trinamool leaders are going into hiding.

শুভেন্দুর ভয়ে গর্তে লুকাচ্ছে দাপুটে তৃণমূল নেতারা ! যে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বড় বড় হুমকি দিত সেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী পাচ্ছে না তৃণমূল !

তৃণমূল কংগ্রেস দলটা কি আদেও আর টিকবে? যে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান হয়েছিল, আজ সেই নন্দীগ্রামেই বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য একটা প্রার্থী পর্যন্ত খুঁজে পাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনপ্রিয়তার জোয়ার এবং বিজেপির জাতীয়তাবাদী শক্তির ভয়ে খোদ তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা এখন টিকিট নিতে ভয় পাচ্ছেন। একের পর এক পুরনো এবং নতুন নেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—তাঁরা নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে চান না। শুভেন্দুজীর খাসতালুকে তৃণমূলের এই শোচনীয় এবং লজ্জাজনক পরিস্থিতির আসল ইনসাইড স্টোরি কী?
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের একসময়ের দাপুটে নেতা এবং ২০২১ সালে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন শেখ সুফিয়ান। দলের অন্দরের খবর, এই উপনির্বাচনে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব সুফিয়ানকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়ে মমতার দলকে সপাটে চড় মেরেছেন সুফিয়ান! একটি সংবাদমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন—‘‘রাজ্য নেতৃত্ব চাক আর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই চাক, প্রার্থী হওয়ার মানসিকতা আমার হারিয়ে গেছে। ২০০৬ সাল থেকে লড়াই করেছি, অথচ দল এতদিন আমার কথা ভাবেনি। আজ বিপদে পড়ে আমার কথা ভাবলে আমি আর সেই জায়গায় পা দেব না।’’ সুফিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন। চোর-দুর্নীতিবাজদের দলে থেকে নিজের সম্মান আর নষ্ট করতে চান না তিনি।
সুফিয়ান তো দূর, যিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে গোহারান হেরেছিলেন, সেই পবিত্র করও এবার রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ভোটের মুখে দলবদলু এই পবিত্র করকে টিকিট দিতে চেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু শুভেন্দুজীর মেগা শক্তির সামনে ফের একবার হারের গ্লানি সহ্য করতে রাজি নন পবিত্রবাবু। তিনিও সোজা বলে দিয়েছেন—‘‘লড়াই করার মতো আর ইচ্ছে নেই।’’ ভাবুন একবার! ভোটের ময়দানে নামার আগেই মাঠ ছেড়ে পালাচ্ছেন ভাইপো-র সাজানো সেনাপতিরা। আসলে তৃণমূল দলটার এই করুণ দশার জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহংকার এবং তোষণের রাজনীতি। ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের পুরনো ও একনিষ্ঠ সৈনিক শেখ সুফিয়ানকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছিল। অভিষেক নিজের অনুগামীদের কাটমানি খাওয়ার লাইসেন্স দিতে পবিত্র করকে টিকিট পাইয়ে দেন। পুরো নির্বাচনে সুফিয়ানের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করেনি তৃণমূলের আইটি সেল। আজ যখন বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন সেই পুরনো কর্মীরাই তৃণমূলকে যোগ্য জবাব দিচ্ছেন। সুফিয়ান ও পবিত্রর এই অস্বীকৃতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তৃণমূলের ভেতরের কঙ্কালটা এবার পুরোপুরি বেরিয়ে পড়েছে।
এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ে জিতেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে ভবানীপুর রেখে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়েছেন। আর শুভেন্দুজী আসন ছাড়তেই সেখানে পদ্ম ফোটানো এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। যে দলের নেতারা বঙ্গে উপনির্বাচনে দাঁড়াতে ভয় পায়, সেই তোলাবাজ ও তোষণকারী দলটার পতন এখন নিশ্চিত। নন্দীগ্রামের পবিত্র মাটি আবারও প্রমাণ করে দিল—এখানে অন্যায়ের কোনো জায়গা নেই, এখানে কেবলই মোদী-শুভেন্দুর জয়জয়কার!
আপনার কী মনে হয়? নন্দীগ্রামে তৃণমূলের এই প্রার্থী না পাওয়ার দৈন্যদশা কি আসলেও পিসি-ভাইপোর দলের শেষলগ্নের ইঙ্গিত? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *