পশ্চিমবঙ্গের এভিয়েশন সেক্টর এবং বিমান পরিষেবা পরিকাঠামোকে এক আন্তর্জাতিক ও বিশ্বমানের স্তরে উন্নীত করতে এক অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্যের নতুন সরকার। কলকাতা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বিমানের নিরাপদ ওঠানামার পথকে আরও প্রশস্ত করতে এবার বিমানবন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে প্রায় ১৩৬ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বাঁকড়া মসজিদ, যা সাধারণ মানুষের কাছে গৌরীপুর জামে মসজিদ নামেও পরিচিত। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই প্রশাসনের উচ্চ মহলে একের পর এক যে সমস্ত নজরকাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে এই মসজিদ সরানোর তোড়জোড় অন্যতম একটি বড় মাস্টারস্ট্রোক।
আজ এলাকার বিধায়ক সৌরভ শিকদার নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত থেকে এই বিষয়ে বড় খোলসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের জাতীয় নিরাপত্তা ও লক্ষ লক্ষ যাত্রীর সুরক্ষার স্বার্থে রাজ্য সরকারের এই অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপকে নামাজ পড়তে আসা বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ এবং আপামোর রাজ্যবাসী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে একাত্ম হয়ে সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আজ শনিবার থেকেই সুরক্ষার স্বার্থে এই মসজিদে সাধারণের প্রবেশ এবং নামাজ পড়া স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মসজিদটি সরানোর সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরেই এয়ারপোর্টের অত্যন্ত সংবেদনশীল রানওয়ের খুব কাছে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এক বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কলকাতা বিমানবন্দরের প্রথম রানওয়ে দিয়ে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ বিমান ওঠানামা করলেও, এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় রানওয়েটি আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায় এতদিন কর্তৃপক্ষকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হতো।
বিশেষ করে, প্রথম রানওয়েটি যদি কখনো জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কোনো নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতো, তখন বড় বড় আন্তর্জাতিক বিমানগুলো এই দ্বিতীয় রানওয়ে দিয়ে ওঠানামা করতে পারত না, যার মূল কারণ ছিল এই মসজিদের ভৌগোলিক অবস্থান। এই মসজিদের কারণেই দ্বিতীয় রানওয়েটির সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে ছিল। কিন্তু রাজ্যে নতুন জমানা আসতেই প্রশাসনিক স্তরে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসকের দফতরে বিধায়ক সৌরভ শিকদার এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক সম্পন্ন হয়, যার পরই এই জট কাটতে শুরু করেছে।
আজ সকাল থেকেই এলাকায় কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিমানবন্দর ও মসজিদ প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য এতদিন যে বিশেষ পাস ইস্যু করা হতো, তাও আজ থেকে চিরতরে রদ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে মসজিদ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও এই সরকারি সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তাঁরাও চান না যে বিমানবন্দরের সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র কোনো বিঘ্ন ঘটুক বা কোনো ক্ষতি হোক। তো তোষণ আর অবহেলার পুরনো অধ্যায়কে চিরতরে বন্ধ করে, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও দেশের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন সরকার যেভাবে ময়দানে নেমে কাজ করছে, তা সত্যি এক উন্নত ও আধুনিক বাংলার অনন্য দিশা দেখাচ্ছে।