No leniency for turning away a critically ill

মুমূর্ষু রোগীকে ফিরিয়ে দিলে রেয়াত নয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কড়া বার্তা

বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের এক বড় সমস্যার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। বহু বছর ধরে রাজ্যে বারবার উঠে এসেছে তথাকথিত ‘রেফার রোগ’-এর অভিযোগ। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী ঘুরে বেড়াচ্ছেন, চিকিৎসার অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ—এমন ছবি বারবার সামনে এসেছে। এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর বার্তা দিল রাজ্য সরকার। শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে জমি পাওয়া সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালকে তাদের মোট শয্যার ১৫ শতাংশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ তৈরি হলে এবং কোনও রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর প্রয়োজন হলে, সেই রোগীদের এই সংরক্ষিত বেডে ভর্তি নিতে হবে। শুধু তাই নয়, ওই রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সেই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা থেকে কোনওভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না।

শনিবার থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে সারভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিষেধক টিকাকরণ কর্মসূচি। কেন্দ্রের সহযোগিতায় চালু হওয়া এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় বিধাননগর হাসপাতাল থেকে। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারের একাধিক নতুন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নতুন করে ১০০টি বেড বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার সমস্ত সরকারি হাসপাতালে সমন্বয় বাড়িয়ে এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় রেফারের ঘটনা কমে যায় এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য হয়রানির শিকার হতে না হয়।

স্বাস্থ্য দফতরের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, সরকারি জমি পাওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রে সাধারণত দরিদ্র রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক বেড এবং আউটডোর পরিষেবা সংরক্ষণের শর্ত থাকে। নতুন সিদ্ধান্ত সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য মোট ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে কেন্দ্র সরকার। ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫২৭ কোটি টাকা রাজ্যের হাতে পৌঁছে গিয়েছে।

সরকারের দাবি, এই বিপুল অর্থ ব্যবহার করে গ্রামীণ ও শহরতলির স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করা হবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিষেবা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে চালু হতে চলেছে ৪৬৭টি প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র। এর ফলে সাধারণ মানুষ অনেক কম দামে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারবেন। সরকারের দাবি, ১০০০ টাকার ওষুধ মাত্র ১০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া সম্ভব হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। এছাড়াও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। ‘অমৃত’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল রোগের ওষুধ ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকিতে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রেফার সমস্যার সমাধান, সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমন্বয়, নতুন বেড বৃদ্ধি, বিনামূল্যে টিকাকরণ এবং সস্তায় ওষুধ—এই একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। এখন নজর থাকবে, এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং সাধারণ মানুষ তার কতটা সুফল পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *