পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব সাফল্যের পর, দিল্লির দরবারে আয়োজিত এনডিএ সংসদীয় দলের হাই-প্রোফাইল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকনির্দেশনার পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়ে নিল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শক্তিশালী বক্তব্য। নতুন সরকার গঠনের পর এনডিএ-র প্রথম যৌথ সংসদীয় বৈঠকে বাংলার প্রসঙ্গ সগৌরবে উত্থাপন করে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ় ভাষায় দাবি করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে দলের এই অভাবনীয় জয় সমগ্র দেশে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ও ভিতকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লির বুকে বসে সমগ্র দেশের দলীয় সাংসদ ও শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে বিজেপি সভাপতি অত্যন্ত আবেগভরে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এক কঠিন ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে বাংলার তৃণমূল স্তরের কর্মীরা যে দিন-রাত এক করে অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সেই রক্তমুখী লড়াইয়ের ফলেই আজ বাংলায় এই নজিরবিহীন ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। সংগঠনের প্রতিটি স্তরের নেতা ও নিঃস্বার্থ কর্মীদের প্রতি দিল্লির এই প্রকাশ্য অভিনন্দন আসলে সাধারণ মানুষের প্রতি সর্বভারতীয় নেতৃত্বের পরম শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় এই মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গকে এভাবে আলাদা করে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিশেষ সম্মান জানানো মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। দিল্লির মসনদ থেকে দলীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বুঝিয়ে দিল যে, আগামী দিনে সর্বভারতীয় রাজনীতির যেকোনো বড় সমীকরণে পশ্চিমবঙ্গই হবে বিজেপির সবচেয়ে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের রাজ্য। বাংলায় অর্জিত এই অভাবনীয় সাফল্যকে কেন্দ্র নেতৃত্ব কেবল একটি ক্ষণিকের নির্বাচনী জয় হিসেবে একেবারেই দেখছে না; বরং একে বাংলায় একটি দীর্ঘমেয়াদী, স্থায়ী ও মজবুত সুশাসনের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।
সংসদের এই মেগা মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন বাংলার লাখো কোটি কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হলো, তেমনই অন্যদিকে দিল্লির বার্তা থেকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের উদ্দেশেও এক কড়া রাজনৈতিক হুঙ্কার পৌঁছে দেওয়া হলো— যে ভারতের নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন স্বমহিমায় অবস্থান করছে নতুন ও প্রগতিশীল বাংলা। তো তোষণ, দুর্নীতি ও অপশাসনের অন্ধকার সময়কে চিরতরে অতীতে ফেলে দিয়ে, দিল্লির দরবারে বাংলার প্রকৃত মান-সম্মান ও অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং জাতীয় রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গকে সাফল্যের শীর্ষ চূড়ায় তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সময়োপযোগী, সম্মানজনক ও বলিষ্ঠ অবস্থান সত্যিই এক উন্নত, শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।