বিগত জমানার মহাদুর্নীতি আর দম্ভের অবসান ঘটিয়ে বঙ্গে নতুন পরিবর্তন আসার পর, এবার তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি জেলের পথ দেখিয়ে বিধানসভা থেকে নজিরবিহীন ও মহাবিস্ফোরক আক্রমণ শানালেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। একুশের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে নোটবুক খুলে রাখা আছে এবং ২০৩১ সালে সব হিসেব বুঝে নেওয়া হবে; বুধবার বিধানসভার তপ্ত পরিবেশ থেকে সেই মন্তব্যেরই ধূলিসাৎ জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী চরম তাচ্ছিল্যের সুরে অভিষেককে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দেন যে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত তিনি আদৌ জেলের বাইরে মুক্ত বাতাসে থাকবেন তো? কারণ দুর্নীতির যা বহর, তাতে তাঁর শ্রীঘরে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
একুশের মঞ্চে মাত্র আড়াই হাজার লোক জোগাড় করে বড় বড় ডায়লগ দেওয়াকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন— ক্ষমতা থাকলে এবার অন্তত ডায়মন্ড হারবারে নিজের লোকসভা কেন্দ্রে পা দিয়ে দেখান অভিষেক। গত ৪ মে-র পর থেকে তিনি জোকা পেরিয়ে নিজের কেন্দ্রে যাওয়ার সাহস পাননি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ‘গোরুর গাড়ির হেডলাইট’ বলে নজিরবিহীনভাবে বিঁধেছেন। ফলতার স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ প্রার্থীর হয়ে প্রচারে না যাওয়ার ভণ্ডামিকে তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে খোলা চ্যালেঞ্জ জানান যে, ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম-নিশান এই বাংলার মাটি থেকে চিরতরে মুছে ফেলা তাঁর নিজস্ব নৈতিক দায়িত্ব। ডায়মন্ড হারবার মডেলের নামে গণতন্ত্রকে কীভাবে লুঠ করা হয়েছিল এবং কাটমানি খাওয়া হয়েছিল, তার প্রতিটি বেআইনি ফাইলের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্য দিকে, এই চরম সত্য উন্মোচনের মাঝেই বুধবার রাজ্যের বিধানসভা সাক্ষী রইল এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক বিশৃঙ্খলা আর রাজনৈতিক সাকাসের। ঋতব্রত পন্থী বিধায়ক আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখার সময় মমাপন্থী কুণাল ঘোষ চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে নিজের আসন ছেড়ে তাঁর দিকে চড়াও হলে বিধানসভার ভেতরে দুই তৃণমূল শিবিরের মধ্যে চরম হাতাহাতি ও বচসা শুরু হয়। বিজেপির বিধায়করা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্পিকার রথীন বসুর কোনো নির্দেশই মানেননি কুণাল ঘোষ। অবশেষে স্পিকারের নির্দেশে মার্শাল ডেকে খোদ কুণাল ঘোষকে রীতিমতো চ্যাংদোলা করে বিধানসভার বাইরে বের করে দেওয়া হয়। তো একদিকে তোষণ ও দাদাগিরির পতন আর অন্যদিকে বিধানসভায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, অপরাধীদের যোগ্য শাস্তি দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী, কড়া ও প্রগতিশীল সিদ্ধান্ত সত্যিই এক উন্নত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।