বাংলা তথা হুগলি জেলার অন্যতম জনপ্রিয় ধাম তারকেশ্বর। এবার এই ধামকেই কাশী বিশ্বনাথের আদলে ঢেলে সাজানো হবে। একটা সময় ছিল যখন কাশীর মন্দির মানেই ছিল সংকীর্ণ গলি, ভিড় আর বিশৃঙ্খলা। কিন্তু আজ সেই কাশী বদলে গেছে। প্রশস্ত রাস্তা, আধুনিক করিডর, উন্নত ভিড় ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে নতুন রূপে দাঁড়িয়ে আছে কাশী বিশ্বনাথ ধাম। ঠিক সেই একই মডেলে বদলাতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের তারকেশ্বর। এখানকার মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগের কেন্দ্র। প্রতি বছর বিশেষ করে দুইটি সময়ে শ্রাবণ মাস ও চৈত্র মাসে এখানে ভক্তদের ঢল নামে। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ আসেন মহাদেবের দর্শনের জন্য। ফলে গোটা এলাকা প্রায় জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
তারকেশ্বর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটা বড় সমস্যা সামনে এসেছে পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে মন্দিরে যাওয়ার রাস্তা অনেক জায়গায় খুবই সরু, ভিড়ের সময় প্রবল যানজট তৈরি হয়, ভক্তদের চলাচলে অসুবিধা হয়, জরুরি পরিষেবাও অনেক সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে বড় মেলা বা উৎসবের সময় পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই কারণেই স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহলেও বারবার দাবি উঠেছে, তারকেশ্বরের অবকাঠামো নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন আছে।
আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসে তারকেশ্বরে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আর সেখানেই মন্দির এবং সংলগ্ন এলাকার পুনঃনির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক ঘোষণা করা হতে পারে। একেবারে বারানসীর কাশি বিশ্বনাথ ধামের আদলে তারকেশ্বরের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য যৌথভাবে পথে নামবে। নির্বাচনী প্রচারে এসে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ধনেখালিতে দাঁড়িয়ে বলে গিয়েছিলেন যে, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে তারকেশ্বরকে সাজানো হবে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তারকেশ্বরের বৈঠকে যোগ দিতে এসেও এরকম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আর তারই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর হুগলি সফর তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে সেখানে সবুজ সংকেত মিলতে পারে। বিশেষ করে চৈত্র এবং শ্রাবণ মাসে তারকেশ্বর মন্দিরে দূর দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের কথা মাথায় রেখেই এবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
যদি কাশী বিশ্বনাথের মতো এই ধামকে সাজানো যায়, তাহলে তা গোটা দেশবাসীর কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। এখন দেখার, মোদীর সফরে এ বিষয়ে কোনও ঘোষণা করা হয় কিনা।