“বাঙালির একটা চেনা প্রবাদ আছে— ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার।’ কিন্তু দিল্লির দরবারে এখন বোধহয় নতুন প্রবাদ তৈরি হচ্ছে— ‘মমতার এমপিরা বারবার, বিজেপির দরজায় এই প্রথমবার!’ হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। যে তৃণমূল কংগ্রেসকে এতদিন ধরে একটা নিচ্ছিদ্র লোহার দুর্গ বলে দাবি করা হতো, সেই দুর্গের দেওয়াল নাকি এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে! খবর যা আসছে, তাতে শুধু তৃণমূল ভবন নয়, কালীঘাটের অন্দরমহলও কেঁপে উঠেছে। দলের এক বা দুজন নয়, একেবারে ২০ জন সাংসদ নাকি একসঙ্গে দলনেত্রীর ওপর ভরসা হারিয়ে এখন নরেন্দ্র মোদীর এনডিএ জোটের ছায়ায় যেতে চাইছেন!”
“রাজনীতির আঙিনায় একেই বলে চরম ডিগবাজি, নাকি খাঁটি ভাষায় ক্ষমতার মোহ? লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার টেবিলে গিয়ে নাকি জমা পড়েছে একটা চিঠি। আর সেই চিঠির বাহক কে? বারাসতের বহুদিনের বিশ্বস্ত সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার! যে ২০ জন সাংসদ সই করেছেন, তাঁদের কৌশলটা কিন্তু বেশ চতুর। তাঁরা সরাসরি বলছেন না যে তাঁরা দল ভাঙছেন, বা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করছেন। তাঁরা শুধু বলছেন— ‘দিদিমণির পাশে আর বসতে ভালো লাগছে না, লোকসভায় আমাদের আলাদা বসার জায়গা দিন, আমরা বরং এনডিএ-র বন্ধু হয়ে থাকতে চাই।’ সরাসরি দলবদল করলে যদি আইন মেনে এমপি পদ চলে যায়, তাই এই চোরাগোপ্তা ‘স্বতন্ত্র ব্লক’ বানানোর খেলা! এটা কি আদর্শের রাজনীতি, নাকি স্রেফ নিজেদের পিঠ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা?”
“সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা কোথায় লেগেছে জানেন? এই বিদ্রোহী তালিকায় নাকি এমন সব নাম ভেসে উঠছে, যাঁরা এতদিন দিদি আর খোকাবাবুর চোখের মণি ছিলেন! ঘাটালের দেব থেকে শুরু করে হুগলির দিদি নম্বর ওয়ান রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়— গ্ল্যামার দুনিয়ার যে তারকাদের হাত ধরে তৃণমূল ভোট বৈতরণী পার করেছিল, তাঁরাই নাকি এখন মমতার হাত ছেড়ে দিতে তৈরি! সঙ্গে রয়েছেন মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, বীরভূমের শতাব্দী রায়, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক, কিংবা হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটরা। কোচবিহারের জগদীশ বাসুনিয়া থেকে বোলপুরের অসিত মাল— তালিকাটা দীর্ঘ। যে সেলিব্রিটিদের দলনেত্রী নিজের ‘তুরুপের তাস’ ভাবতেন, আজ সংকটের দিনে তাঁরাই যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে বুঝতে হবে দলের ভেতরের রাশ সম্পূর্ণ আলগা হয়ে গেছে!”
“এই ঘটনা প্রমাণ করে দেয়, তৃণমূলের ভেতরে এখন একনায়কতন্ত্র আর অহংকারের পাহাড় তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে ২৯টি আসন নিয়ে বুক চিতিয়েছিল দল, বসিরহাটের সাংসদের মৃত্যুর পর তা এসে দাঁড়িয়েছিল ২৮-এ। আর আজ যদি এই ২০ জন সত্যিই আলাদা হয়ে যান, তবে মমতা আর অভিষেকের হাতে পড়ে থাকবে মাত্র ৮ জন সাংসদ! যার মধ্যে একজন তো অভিষেক নিজেই! ভাবা যায়? দিল্লিতে যার হুঙ্কারে একসময় বিরোধী জোট কাঁপত, আজ তিনি নিজের দলের সাংসদদেরই একজোট রাখতে পারলেন না! নিজের ঘরের অসন্তোষ যিনি সামলাতে পারেন না, তিনি দেশকে বিকল্প দিশা দেখানোর স্বপ্ন দেখেন কীভাবে? এটা কি মমতার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা নয়?”
“রাজনীতির এই খেলা কোন দিকে মোড় নেয়, স্পিকার ওম বিড়লা এই চিঠির পর কী পদক্ষেপ করেন— সেটাই এখন দেখার। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, বাংলার রাজনীতিতে কালীঘাটের একাধিপত্যের দিন বোধহয় ফুরিয়ে আসছে। আপনাদের কী মনে হয়? এই সাংসদরা কি স্রেফ নিজেদের স্বার্থে দল ছাড়ছেন, নাকি তৃণমূলের দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে বাঁচতে? কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।