বাংলার রাজনীতিতে ফের একবার সত্যের বজ্রনিনাদ! এবার উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির মালবাজারে এক মেগা হিন্দু সাংস্কৃতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ও নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান চালিকাশক্তি তথা পদ্মশ্রী প্রাপক সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজ। সরাসরি নাম না নিলেও, তাঁর তীক্ষ্ণ নিশানায় উঠে এলো কালীঘাটের দম্ভ এবং রাজনীতির ‘অহংকারের পতনের’ অমোঘ প্রসঙ্গ। শুধু তাই নয়, একসময় তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার যে রাজনৈতিক গুঞ্জন উঠেছিল, তা নিয়ে এক ঐতিহাসিক সত্য সামনে এনে নিজেকে ‘কিং মেকার’ বলে দাবি করলেন এই তেজস্বী সন্ন্যাসী! ঠিক কী বলেছেন কার্তিক মহারাজ? কেন তাঁর এই বয়ানে কাঁপছে বিরোধী শিবির?
মালবাজারের হিন্দু মিলন মন্দিরে আয়োজিত এই বিশাল সভায় বিগত নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সুশাসনের জমানা নিয়ে বলতে গিয়ে কার্তিক মহারাজ এক চরম হুঁশিয়ারি দেন। সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন— “এত অহংকার! ভগবান সব সহ্য করতে পারেন, কিন্তু কোনো মানুষের অহংকার সহ্য করেন না।” মহারাজ স্পষ্ট করে দেন যে, বাংলায় যদি সঠিক সময়ে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন না হতো এবং ডবল ইঞ্জিন সরকার সদর্থক ভূমিকা না নিত, তবে বাংলার সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বিষহ ও শোচনীয় হয়ে উঠত। তোষণের অন্ধকার থেকে রক্ষা করার জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি ছিল।
একসময় রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা ছড়িয়েছিল যে কার্তিক মহারাজকেই হয়তো বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই মহারাজ অত্যন্ত সাবলীলভাবে এক চাঞ্চল্যকর সত্য স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, “এটা একদম সত্য ঘটনা যে, পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় সার্ভে রিপোর্টে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার নামই সবার প্রথমে উঠে এসেছিল।” কিন্তু একজন প্রকৃত সন্ন্যাসী হিসেবে রাজসিংহাসন বা ক্ষমতার কোনো মোহ তাঁর নেই। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি এক ঐতিহাসিক মন্তব্য করেন— “সন্ন্যাসী কখনো নিজে কিং বা রাজা হয় না, সন্ন্যাসী আসলে কিং মেকার হয়! যেমন ভগবান রামচন্দ্রের পিছনে ছিলেন ঋষি বশিষ্ট, শ্রীকৃষ্ণের পিছনে ছিলেন সন্দীপন মুনি, আর ছত্রপতি শিবাজীর পিছনে ছিলেন সমর্থ রামদেব স্বামী।”
মহারাজ দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন, বর্তমানে সমগ্র সাধু সমাজ এই সুশাসক সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে, কারণ এই লড়াইটা আসলে কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বা ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি হলো ‘ধর্ম বনাম অধর্মের’ মহাসংগ্রাম! এদিন মালবাজারে কার্তিক মহারাজকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মালবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে হুডখোলা জিপে করে তাঁকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানিয়ে সভাস্থলে নিয়ে আসা হয়। এই মেগা আয়োজনে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিও ছিল অত্যন্ত চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে বহু ভক্তকে দীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি মহারাজ ওদলাবাড়িতে ভারত সেবাশ্রমের নবনির্মিত আশ্রমের কাজও খতিয়ে দেখেন এবং সন্ধ্যায় তাঁর কালিয়াগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে। মালবাজার ভারত সেবাশ্রমের সম্পাদক দীপক দে জানিয়েছেন, মহারাজের এই পুণ্য উপস্থিতিতে আশ্রমবাসী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ আজ আপ্লুত ও ধন্য।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কার্তিক মহারাজের এই ধারালো ও সত্যনিষ্ঠ মন্তব্য আগামী দিনে বাংলার সমীকরণকে আরও মজবুত করবে। তোষণের রাজনীতিকে ধুয়ে মুছে সাফ করে সনাতন সংস্কৃতির এই জাগরণ প্রমাণ করে দেয় যে, অহংকারের পতন নিশ্চিত আর জয় সবসময় ধর্মেরই হয়।
কার্তিক মহারাজের এই ‘কিং মেকার’ তত্ত্ব এবং মমতার অহংকার নিয়ে তাঁর এই কড়া আক্রমণকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত অবশ্যই জানান।